কেঁদে কেঁদে আল্লাহর কাছে বিচার দিলেন ত্ব-হার সেই বন্ধু

নজর২৪ ডেস্ক- ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনান গাইবান্ধায় যে বন্ধুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন বলে খবর বেরিয়েছে, সেই বন্ধুই নাকি বিষয়টি জানতেন না। সিয়াম ইবনে শরীফ নামের ওই বন্ধু চাকরির সুবাদে থাকেন রংপুর নগরে। তিনি বলছেন, ত্ব-হার সন্ধান চেয়ে রংপুরে দুটি মানববন্ধনে অংশও নিয়েছিলেন তিনি। এখন ত্ব-হার ঘটনায় চাকরি হারাতে হয়েছে সিয়ামকে।

 

সিয়াম রংপুরে একটি মুঠোফোন সেট কোম্পানিতে কর্মকর্তা হিসেবে মাত্র তিন মাস আগে যোগ দেন। আজ রোববার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি চাকরি হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

 

সিয়াম বলেন, তাঁর বাড়ি গাইবান্ধায়। তবে চাকরির সুবাদে এখন রংপুরে বসবাস করেন। আবু ত্ব-হা আদনান তাঁর স্কুলজীবনের বন্ধু। ত্ব-হাসহ চারজন যে তাঁর বাড়িতে ছিলেন, তা তিনি জানতেন না। বন্ধু তাঁকে বিষয়টি জানাননি। এমনকি তাঁর (সিয়ামের) মা–ও এ বিষয়ে তাঁকে কিছু বলেননি। বন্ধু ত্ব-হা নিখোঁজ হয়েছেন শুনে ব্যথিত হন তিনি। তাঁর সন্ধান চেয়ে রংপুরে দুটি মানববন্ধন হয়। তাতে অংশও নেন তিনি। তাঁর বাড়িতে ত্ব-হাসহ চারজনের থাকার খবর শুনে তিনি অবাক হয়ে যান।

 

সিয়ামের ১০ মাসের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। চাকরি হারানোর পর মনটা ভীষণ খারাপ। বিশেষ করে শিশুসন্তানকে নিয়ে এখন কী করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। এসব কথা বলতে গিয়ে গলা ধরে আসে তাঁর।

 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিয়াম বলেন, আমার কোনো অপরাধ নেই। অথচ ত্ব-হা আমার বাড়িতে আত্মগোপনে থাকা এবং আমি তার (ত্ব-হার) সন্ধান চেয়ে মানববন্ধনে অংশ নিয়েছিলাম বলেই চাকরিটা হারালাম। আল্লাহ বিচার করবে, আমি সত্যি কিছু জানতাম না।

 

তিনি বলেন, আমার বন্ধু আবু ত্ব-হাসহ চারজন গাইবান্ধায় আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল, এটা আমাকে জানানো হয়নি। এ কারণে ত্ব-হার নিখোঁজ হওয়ার সংবাদে আমি নিজেও উদ্বিগ্ন ছিলাম। অন্য বন্ধু-বান্ধবদের মতো ত্ব-হার সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলাম।

 

তিনি আরও বলেন, পুলিশ ত্ব-হাকে উদ্ধারের পর জানলাম, সে আত্মগোপনে ছিল। এবং সেটা নাকি আমাদের বাড়িতেই। আমার মা ত্ব-হাদের সেখানে লুকিয়ে থাকার ব্যাপারে আমাকে কিছু জানায়নি। অথচ এখন অভিযোগ করা হচ্ছে, আমি নাকি তাদেরকে লুকিয়ে রেখে মানববন্ধন করেছি। এটা মিথ্যা অভিযোগ, আমি কিছুই জানতাম না।

 

আপনার মা কেন ত্ব-হাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি আপনাকে জানালেন না? এমন প্রশ্নের জবাবে সিয়াম বলেন, ত্ব-হা তো প্রায়ই আমাদের বাড়িতে যেত। ও তো আমার স্কুল এবং কলেজ ফ্রেন্ড। আমাদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার অনেক স্মৃতি। খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক আমাদের। ত্ব-হা তার স্ত্রীকে নিয়েও আমাদের গ্রামে যেত। আর এবার নাকি সে (ত্ব-হা) আমার মাকে অনুরোধ করেছিল, তাদের আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি কাউকে না জানানোর জন্য। পুলিশ ত্ব-হাকে উদ্ধারের পরই এটা জানতে পেরেছি।

 

এ সময় তিনি বলেন, আমার কষ্ট হচ্ছে। বিভিন্নজন আমাকে ভুল বুঝছে। অনেক মিডিয়া আমাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এতে আমার মানসম্মানের ক্ষতি হচ্ছে। ত্ব-হার এভাবে আশ্রয় নেওয়া বা আত্মগোপনে যাওয়ার ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া উচিত। আসলে কী ঘটেছে, তা সবার কাছে স্পষ্ট হওয়া দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *