আবু ত্ব-হার বন্ধ সিম চালু করলো কারা, কে সেই মেহেদী হাসান?

নজর২৪ ডেস্ক- আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের নিখোঁজের ঘটনায় মেহেদী হাসান নামে একজনকে খুঁজছে পুলিশ। ওই ব্যক্তি ত্ব-হা আদনানের পুরনো একটি নম্বর থেকে মা আজেদা বেগমের নম্বরে পর পর দু’দিন ফোন করে টাকা চেয়েছেন। বিনিময়ে আদনানকে ছেড়ে দেয়ার দাবি করেন।

 

এ ব্যাপারে ত্ব-হা আদনানের মা আজেদা বেগম জানান, আমার ছেলের একটি মোবাইল নম্বর ছিল। সেটি দীর্ঘদিন থেকে বন্ধ। হঠাৎ শুক্রবার বিকালে সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। আমার সঙ্গে মেহেদী হাসান পরিচয়ে এক ব্যক্তি কথা বলে। এরপর তারা একটি ইমো আইডি খুলতে বললে আমার মেয়ে সেই আইডি খোলে।

 

তিনি জানান, এর দুই দিন পর শনিবার আবার সেই ফোন নম্বর থেকে কল আসে। এরপর আমার ছেলে এবং তার তিন সঙ্গী ভালো আছে বলে জানায়। কিন্তু আমি জানতে চাই, সে কোথায় আছে এবং আমার ছেলেকে ফোন দাও আমি কথা বলব। তখন তারা টাকা দাবি করছিল। যখন টাকা দাবি করছিল তখন আমরা ইমো আইডিটি বন্ধ করে দেই।

 

আদনানের মায়ের প্রশ্ন, আমার ছেলের বন্ধ নম্বর তারা পেল কী করে? আসলে তারা কারা? আমাদের পরিচিত কেউ কিনা?

 

কে এই মেহেদী হাসান? তার কোনো পরিচয় জানাতে পারেনি কেউ। পুলিশও ওই নামের ব্যক্তির অনুসন্ধান করছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, আবু ত্ব-হা মোহাম্মদ আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ অপর তিন ব্যক্তির নাম- আব্দুল মুহিত, মোহাম্মদ ফিরোজ ও গাড়িচালক আমির হোসেন ফয়েজ। তারা সবাই আদনানের অনুসারী। ওই রাত থেকে তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে।

 

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ত্ব-হা’র খোঁজ পেতে ইতোমধ্যে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিবুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের চার সদস্যের একটি চৌকশ টিম গঠন করা হয়েছে। তারা মাঠে কাজ করছেন। সীমান্তের থানা ও ব্যক্তিগত সোর্সে তার ছবি দেয়া হয়েছে। বাড়ানো হয়েছে নজরদারিও।

 

সূত্র বলছে, আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের প্রকৃত নাম আফছানুল আদনান। বয়স ৩১। তার মা আজেদা বেগম। বাবা মৃত রফিকুল ইসলাম। ছোট বোন রিতিকা রুবাইয়াত ইসলাম। আদনানের প্রথম স্ত্রী আবিদা নুর, তাদের সংসারে তিন বছরের একটি মেয়ে ও দেড় বছর বয়সী একটি ছেলে-সন্তান রয়েছে।

 

বাবা মারা যাওয়ার পর রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডে নানার বাড়িতে বড় হন আদনান। বিয়ের পর স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে নগরীর নিউ শালবন এলাকায় বসবাস করেন। কয়েক মাস আগে আদনান আরেকটি বিয়ে করেন। তার দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

 

আদনান প্রাতিষ্ঠানিক কোনো আরবি শিক্ষা গ্রহণ করেননি। তিনি কারমাইকেল কলেজ থেকে দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। কোরআন শিক্ষার জন্য কিছুদিন স্থানীয় একটি মাদরাসায় তালিম নেন। এ সময় তিনি আহলে হাদিস নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এছাড়াও লাইফ ফাউন্ডেশন, আলোর পথ এবং একাডেমিক কোরআন স্টাডিজ নামে সংগঠনে জড়িত রয়েছেন। ঢাকার মিরপুর আল ইদফান ইসলামী গার্লস মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতাও তিনি।

 

এছাড়াও আদনানের সঙ্গে নিখোঁজ হওয়া তিনজনের মধ্যে একজন বগুড়ার এবং বাকি দুইজন রংপুরের বাসিন্দা। তারা তিনজনই আদনানের ইসলামি আলোচনার ভীষণ ভক্ত ও অনুরাগী। এদের ২৮ বছর বয়সী মোহাম্মদ ফিরোজ আলম বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সাফিয়ান পাড়ায় থাকেন। তার বাবার নাম আনিছুর রহমান। ঘটনার দিন ১০ জুন তিনি রংপুর থেকে প্রাইভেটকারে আদনানকে সঙ্গে নিয়ে বগুড়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। সেখানে একটি মাহফিলে আদনানের বয়ানের কথা ছিল। কিন্তু তা বন্ধ হওয়ায় পরে ঢাকার পথে যাত্রা করেন তারা।

 

নিখোঁজ আব্দুল মুকিতের বয়স ২৯। তিনি অবিবাহিত। গ্রামের বাড়ি রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার জায়গীরহাট এলাকায়। তার বাবা আনছারুল হক। আব্দুল মুকিত স্থানীয় শিশু নিকেতন স্কুলে শিক্ষকতা করেন। এর পাশাপাশি তিনি প্রাইভেট পড়াতেন। আদনানের মতো মুকিতও কারমাইকেল কলেজ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন।

 

এছাড়াও নিখোঁজ গাড়িচালক আমির উদ্দিন ফয়েজ রংপুর নগরীর আশরতপুর চকবাজার এলাকার বাসিন্দা। তার স্ত্রী মোহতিন উসতেফা রাখা। তাদের সংসারে তিন বছরের একটি মেয়ে ও ২০দিন বয়সী একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। আমির উদ্দিন আগে ধান-চাল ও জ্বালানি তেলের ব্যবসা করতেন। করোনায় লোকসানের শিকার হয়ে তিনি ভাড়ায়চালিত প্রাইভেটকারের স্টিয়ারিং হাতে নেন। তিনি আদনানের অনুসারী হওয়ার পর পাঞ্জাবি-পাজামা পরিধান শুরু করেন এবং মুখে দাড়ি রাখেন।

 

নিখোঁজ আমির উদ্দিনকে ফিরে পেতে তার মা সুলতানা রাজিয়া রংপুরের কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। একই আকুতি জানিয়ে আদনানের মা আজেদা বেগমও কোতোয়ালি থানায় ডায়েরি করেছেন। এছাড়াও আদনানের দ্বিতীয় স্ত্রী সাবিকুন্নাহার সারা ঢাকার পল্লবী থানায় আদনানের সন্ধান দাবি করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *