নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের নবগঠিত কমিটিকে ‘নতুন বোতলে পুরাতন কমিটি’ বলে মন্তব্য করেছেন শাহ আহমদ শফীপন্থী হিসেবে পরিচিত সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাকালীন কমিটির যুগ্ম মহাসচিব মাইনুদ্দিন রুহি।
সোমবার (৭ জুন) সন্ধ্যায় হেফাজতের নতুন কমিটি গঠনের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি গণমাধ্যমকে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, ‘হেফাজতে ইসলামের গঠিত কমিটি হচ্ছে নতুন বোতলে পুরাতন কমিটি। এটির মধ্যে ব্যতিক্রম কিছু নেই। এটি হেফাজতে ইসলামের কোনো কমিটি নয়, এটি হচ্ছে ফটিকছড়ি সমিতি। এই কমিটি কোনো কোনো রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য করা হয়েছে।’

হেফাজতে ইসলামের কমিটি আগে থেকে আছে মন্তব্য করে মাইনুদ্দিন রুহি বলেন, ‘আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরের নেতৃত্বাধীন যে কমিটি ছিল, সেটি এখনও বিলুপ্ত হয়নি। এই কমিটি এখনও চলছে। এটি এখন পর্যন্ত হেফাজতের বৈধ কমিটি। নতুন কমিটিতে তারা হুজুরের ছেলে ইউসুফ মাদানিকে রেখেছেন। কিন্তু তিনি নিজেই চিঠি দিয়ে এই কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন।’
নতুন করে আবার হেফাজতের আরেকটি কমিটি গঠন করা হবে কি-না জানতে চাইলে মাওলানা রুহি বলেন, ‘আগামী ২২ জুন ঢাকা প্রেস ক্লাবে শফী হুজুরের জীবন ও কর্মশীর্ষক আলোচনা সভা আছে। ওই সভায় বিস্তারিত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। এরই মধ্যে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে।’
এদিকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কমিটিতে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এমন কাউকে পদ দেওয়া হবে না বলে সম্প্রতি জানিয়েছিলেন সংগঠনটির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা।
তবে সোমবার ঘোষিত কমিটিতে তারা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাকে জায়গা দিয়েছেন। পাশাপাশি কমিটিতে স্থান পাওয়া অনেকে পরস্পর আত্মীয় বলে জানা গেছে। নেতাদের পাশাপাশি কওমি মাদরাসার শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারও কমিটিতে স্থান পেয়েছেন।
সোমবার (৭ জুন) মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরীকে আমির ও মাওলানা নুরুল ইসলামকে মহাসচিব করে ৩৩ সদস্য বিশিষ্ট হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।
এ কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এতে রাজনৈতিক দল, বাংলাদেশ কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড (বেফাক), সিলেটের আজাদ দ্বীনী এদারা, তানজীমুল মাদারিসসহ কওমি ধারার সর্বোচ্চ শিক্ষা কর্তৃপক্ষ হাইয়াতুল উলইয়া সংগঠনের নেতাদের পদ দেওয়া হয়েছে।
নতুন কমিটিতে হেফাজতের নায়েবে আমির হয়েছেন আতাউল্লাহ হাফেজ্জি। তিনি রাজনৈতিক দল ‘খেলাফত আন্দোলনে’র আমির। যুগ্ম মহাসচিব হয়েছেন মাওলানা আনোয়ারুল করিম। তিনি আরেক রাজনৈতিক দল জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের সহসভাপতি।
এছাড়া দাওয়া বিষয়ক সম্পাদক হওয়া মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী রাজনৈতিক দল খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা। সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মীর ইদ্রিস খেলাফত আন্দোলনের নেতা। প্রচার সম্পাদক মাওলানা মুহিউদ্দীন রাব্বানী জামাতভিত্তিক ওলামা মাশায়েখ ও মসজিদ মিশন কেন্দ্রিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।
রাজনৈতিক দলের নেতার পাশাপাশি হেফাজতের নতুন কমিটিতে আছে আত্মীয়-পরিজনের সংশ্লেষ। সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আছেন মামা-ভাগ্নে। জানা গেছে হেফাজতে ইসলামের নতুন কমিটির আমির মাওলানা জুনায়েদ বাবুনগরী মামা আর প্রধান উপদেষ্টা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী তার ভাগ্নে।
কওমি মাদরাসার আলেমরা বলছেন, নতুন কমিটি গঠনের নামে মূলত হাস্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। আলেমদের অভিযোগ, রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি কওমি শিক্ষা পরিচালনায় যেসব গুরুত্বপূর্ণ বোর্ড আছে, ঘোষিত কমিটিতে এখন সেই বোর্ডের কর্তাদের সামনে আনা হয়েছে। এতে সারা দেশের কওমি শিক্ষায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
জানা গেছে, হেফাজতের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী বেফাকে আমেলার সদস্য। হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী বেফাকের নায়েবে আমির এবং হাইয়াতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটি সদস্য। হেফাজতের নায়েবে আমির আতাউল্লাহ হাফেজ্জি বেফাকের নায়েবে আমির। এছাড়া হেফাজতের নায়েবে আমির সালাউদ্দিন নানুপুরী বেফাকে আমেলার সদস্য।
হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব সাজেদুর রহমান বেফাকের নায়েবে আমির এবং হাইয়াতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য। হেফাজতের নায়েবে আমির মাওলানা মুহিব্বুল্লাহ গাছবাড়ি সিলেটের আজাদ দ্বীনি বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক। মাওলানা আব্দুল হক বেফাকের নায়েবে আমির ও হাইয়াতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটি সদস্য। মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস হেফাজতের নায়েবে আমির ও হাইয়াতুল উলয়ার স্থায়ী কমিটির সদস্য।
