মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের সদর উপজেলায় খোদেজা বেগম (৬০) নামে এক বৃদ্ধাকে পা দিয়ে পিষে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনা কোহিনূর নামে একজনকে পুলিশ আটক করেছে।
শুক্রবার (৪ জুন) বিকেলে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে উপজেলার হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত খোতেজা বেগম ঐ এলাকার সোলায়মান আলীর স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শামসুল হক ও সোলায়মান আলী আপন ভাই। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এমতাবস্থায় আজ শুক্রবার বিকেলে বাড়ীর পেছনে নিজ জমিতে নিহতের ছেলে মালেকের স্ত্রী মুক্তা একটি আম গাছ লাগাতে গেলে তাতে বাঁধা দেয় শামসুল হক।
পরে নিহত খোতেজা তাদের বলেন আমাদের জমিতে আমরা গাছ লাগাবো তোমরা বাঁধা দেয়ার কে? এই কথা বলার সাথে সাথে তাকে টেনে হিচরে শামসুল হকের উঠানে নিয়ে গিয়ে তার ছেলে মেয়ে ও ছেলের বউ সকলে মিলে পা দিয়ে লাথি মারতে থাকলে সেখানেই মৃত্যু হয় খোদেজা বেগমের।
এসময় মাকে বাঁচাতে নিহতের দুই ছেলে আব্দুল খালেক ও আব্দুল মালেক এগিয়ে গেলে তাদেরকেও বেধরক মারপিট করা হয়। খোতেজার মৃত্যু নিশ্চিত হলে তারা সকলে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন ও খোতেজার আত্মীয় স্বজন, কোহিনুর নামে একজনকে আটক করে বেঁদে রাখে এবং পুলিশ এলে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেন।
এ বিষয়ে হারাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বলেন, পারিবারিক কলহপর জেরে ঐ নারীকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এতে একজনকে আটক করা হলেও ঘটনার সাথে জড়িত বাকিরা পলাতক রয়েছে।
ঘটনার পর পরই লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহা আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এ-সার্কেল) মারুফা জামান বলেন, ঘটনা জানার পর পরই পুলিশ প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রত্যক্ষদর্শিদের বক্তব্য নেয়া হয়েছে। ঘটনা স্থল থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ও হত্যার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামীদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া চলছে।
