পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষ: মুখ খুলেছেন মুফতি আমির হামজা

নজর২৪, ঢাকা- তরুণদের উদ্দেশে উগ্রবাদী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করে আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আমির হামজা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

 

পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার হামজাকে ঢাকার মুখ্য মহানগর আদালতের হাকিম মোর্শেদ আল মামুন ভূঁইয়ার আদালতে হাজির করেন তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক কাজী মিজানুর রহমান।

 

আমির হামজা স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) পরিদর্শক কাজী মিজানুর রহমান।

 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মোরশেদ আল মামুন ভূঁইয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।

 

তদন্তকারী কর্মকর্তা বলেন, আসামিকে পুলিশি রিমান্ডে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জড়িত থাকার কথা প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেন। এছাড়া তার সহযোগী কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেন। এরপর আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

 

আমির হামজার উগ্রবাদী বক্তব্য উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্প্রতি দুই তরুণ জাতীয় সংসদে খোলা তলোয়ার নিয়ে হামলার পরিকল্পনা করেন অভিযোগ উঠেছে। সেই দুই তরুণই গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে আছেন।

 

শেরেবাংলা নগর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমির হামজা তার দেয়া উগ্রবাদি বক্তব্যে তরুণ সমাজকে ইসলামি বিপ্লবের দিকে আকর্ষণ করার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন।’

 

গত ২৫ মে শেরেবাংলা নগর থানায় করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আমির হামজাকে ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠায় আদালত। এর আগে গত ৫ মে খোলা তলোয়ার নিয়ে সংসদ ভবনে হামলা চালানোর চেষ্টারত সাকিব নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

 

সাকিবকে আটকের পর শেরেবাংলা নগর থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় সাকিবসহ আলী হাসান উসামা ও মাওলানা মাহমুদুল হাসান গুনবীকে আসামি করা হয়।

 

সিটিটিসি জানায়, সাকিব মোবাইল ফোনে উগ্রবাদ বার্তা সংবলিত ভিডিও প্রচারকারী আলী হাসান উসামা, মাহমুদুল হাসান গুনবী, আমির হামজা, হারুন ইজহার প্রমুখ ব্যক্তির উগ্রবাদী জিহাদি হামলার বার্তা সংবলিত ভিডিও দেখে উগ্রবাদে আসক্ত হন।

 

ওই এজাহারে মুফতি আমির হামজার নাম ছিল। তার সূত্রে ধরেই ২৪ মে বিকেলে কুষ্টিয়া থেকে আমির হামজাকে গ্রেপ্তার করে সিটিটিসি।

 

এর আগে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আলী হাসান ওসামা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

 

মুফতি আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার পাটিকাবাড়ী ইউনিয়নের রিয়াজ সর্দারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ জাতীয় মুফাসীর পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

কুষ্টিয়ার আঞ্চলিক ভাষায় ওয়াজকারী আমির হামজার জন্ম ১৯৯১ সালে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে আল-কোরআনের ওপর অনার্স ও মাস্টার্স করেন তিনি।

 

গত বছর দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়ার পর, আমির হামজা ক্রমাগতভাবে মাস্ক না পরতে উৎসাহ দিয়ে আসছিলেন। তিনি বলেন, ‘করোনা এসেছে ইসলামে অবিশ্বাসীদের শায়েস্তা করতে’। তিনি এমনও বলেন, ‘পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়লে কারও করোনা হবে না।’

 

এ নিয়ে তীব্র সমালোচনা হলে হামজা তার মতো করে ব্যাখ্যা দেন। তিনি বলেন, ‘এই বক্তব্যের আগে পরে তিনি আরও অনেক কিছু বলেছেন। সেগুলো প্রচার না হওয়ায় তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *