রোজিনা নিপীড়ন: প্রশ্নবিদ্ধ প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের ভূমিকা

নজর২৪ ডেস্ক- সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবা সচিবের অফিসে নির্যাতিত হন প্রথম আলোর সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম। রোজিনা ইসলাম একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত। তিনি অনেকগুলো আন্তর্জাতিক পুরস্কারও অর্জন করেছেন। একজন ভালো সাংবাদিক হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে।

 

গত ১৭ মে তিনি গিয়েছিলেন সচিবালয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য। সেখানে স্বাস্থ্য সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয় ৬ ঘণ্টা। চালানো হয় নির্যাতন। যে সমস্ত ছবি প্রকাশিত হচ্ছে তাতে দেখা যাচ্ছে যে তার গলা চেপে ধরেছিলেন একজন অতিরিক্ত সচিব।

 

এই ঘটনার সর্বোচ্চ নিন্দা এবং প্রতিবাদ হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে ন্যায় বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে কিন্তু এই ঘটনায় প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

 

গতকাল ডেইলি স্টার রোজিনা ইসলামের চরিত্র হনন সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনটি প্রকাশ করেছে। ডেইলি স্টার এটি অমার্জনীয় অন্যায় করেছে এবং সম্পাদকীয় রীতিনীতিকে ভূলুণ্ঠিত করেছে। এই ডেইলি স্টারই ওয়ান-ইলেভেনের সময় ডিজিএফআইয়ের দেওয়া তথ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চরিত্র হননের চেষ্টা করেছিল এবং এজন্য মাহফুজ আনাম জাতির কাছে ক্ষমাও চেয়েছিলেন। ডেইলি স্টার আবার প্রমাণ করলো যে তাদের নীতি ভ্রষ্টতা কতটা ভয়ঙ্কর।

 

অনুসন্ধান করে দেখা গেছে যে, বিকাল সাড়ে ৩ টা থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত রোজিনাকে স্বাস্থ্যসেবা সচিবের একান্ত সচিবের কক্ষে আটকে রাখা হয়েছিল। এই সময়ে প্রথম আলোর কোনো সংবাদকর্মীকে সেখানে পাওয়া যায়নি। প্রথম আলোর যারা স্বাস্থ্য বিট করেন বা সচিবালয় বিট করেন সেই সাংবাদিকরা কোথায় ছিলেন। এমনকি প্রথম আলোর অনলাইনে এই আটকের বিষয় নিয়ে কোন সংবাদ পরিবেশন করা হয়নি।

 

রোজিনাকে যখন শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় তারও কয়েক ঘণ্টা পর প্রায় মধ্য রাতের দিকে প্রথম আলোর আনিসুল হক সেখানে উপস্থিত হন। এতটা সময় একজন একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হলো, প্রথম আলো কেন সেখানে গেল না, কি তাদের সমস্যা ছিল এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা জরুরি।

 

প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান ঘটনার পরদিন রাতে বিবৃতি দিলেন। এর আগে পর্যন্ত তাকে দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময় দেখা গেছে যে, প্রথম আলো বিপদে পড়লে তার সংবাদকর্মীদের পাশে দাঁড়ায় না। এর আগেও মৌলবাদীদের উস্কানির সময় একটি কার্টুন নিয়ে যখন প্রথম আলো বিপদে পড়েছিল তখন প্রথম আলোর সম্পাদক ওই কার্টুনিস্টকে কোরবানি দিয়েছিল নিজে বাঁচার জন্য। এখনও রোজিনার ব্যাপারটিও কি সেরকম ছিল কিনা তা খতিয়ে দেখা দরকার।

 

কারণ যখন রোজিনাকে নিয়ে গোটা সাংবাদিক সমাজ এবং সাধারণ মানুষ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখালো তখনই বাহবা কুড়ানোর জন্য প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ সামনে এসে দাঁড়াল। যদি রোজিনার ঘটনাটা অন্য খাতে মোড় নিত তাহলে প্রথম আলো কি দাঁড়াত? এই প্রশ্নটা উঠত। আমরা চাই যে স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকশিত হোক।

 

আর স্বাধীন সাংবাদিকতা বিকশিত হতে হলে সম্পাদকীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর শিরদাঁড়া করে দাঁড়াতে হবে। যেকোনো বিপদে সংবাদকর্মীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। কিন্তু এখানে প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *