পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না: প্রধানমন্ত্রী

নজর২৪, ঢাকা- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের দেশে যারা বিত্তশালী তারা প্লট কেনেন। ভালো ভালো দৃষ্টিনন্দন বাড়িঘর বানান। যখন পূর্বাচল শুরু হলো, তখন আমি দেখেছি.. এমনকি গুলশান, বারিধারায় বিশাল বিশাল অট্টালিকাও যাদের, তাদেরও পূর্বাচলে একটা প্লট না থাকলে নাকি ইজ্জতই থাকে না। এই রকমও কিছু কিছু মানুষের মানসিকতা আমি দেখেছি।’

 

রবিবার (৯ মে) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের এক হাজার ৪৪০ জনের মধ্যে প্লট বরাদ্দ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যাদের এত বিশাল বিশাল অট্টালিকা, বাড়িঘর ফ্ল্যাট সবই আছে, তাদের আরও লাগবে কেন? মরলে তো সবাইকে যেতে হবে সেই কবরে- মাত্র তিন হাত-সাড়ে তিন হাত জায়গায়। এই ধনসম্পদ কেউ সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবে না। এই কথাটা মানুষ কেন ভুলে যায় আমি জানি না।’

 

পূর্বাচলে যারা প্লট বরাদ্দ পেয়েছেন তাদের উদ্দেশ্যে সরকার প্রধান বলেন, যাদের সত্যিকার প্রাপ্য, আপনারা কিন্তু বঞ্চিত ছিলেন। কাজেই সব সময় আমাদের একটা প্রচেষ্টা ছিল যে কীভাবে আপনাদের বঞ্চনার হাত থেকে মুক্তি দেব। আপনারা জমি দিয়েছেন অথচ আপনারা প্লট পাবেন না এটা হতে পারে না।

 

জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে পূর্বাচলে জাতির পিতার স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটা প্রকল্পের অনুমোদন চেয়ে প্রস্তাব এসেছিল। যার অনুমোদন তিনি দেননি বলে অনুষ্ঠানে জানান।

 

বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, সেই ফাইলে আমি লিখে দিয়েছিলাম, এখানকার যারা আদিবাসী তারা প্লট পাবে তারপর আমি প্রকল্পের অনুমোদন দেব। তার আগে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেব না এবং কীভাবে প্লট বের করবে সেটা যেন মন্ত্রণালয় বা রাজউক যেন খুঁজে বের করে। সেই নির্দেশনাটাই আমি দিয়েছি।

 

শেখ হাসিনা বলেন, আমি এইটুকু চাই, বাংলাদেশের একটি মানুষও গৃহহীন থাকবে না। যেইটুকু পারি, যেভাবে পারি একটা মানুষকে একটা ঘর, একটা মাথা গোঁজার ঠাঁই সেটা আমরা করে দেব এবং প্রত্যেকটা ঘরেই বিদ্যুৎ থাকবে, আলো জ্বলবে। প্রতিটি পরিবারেই শিক্ষিত মানুষ থাকবে, লেখাপড়া শিখবে।

 

যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এবং সেই লেখাপড়া শুধু কেতাবি পড়া না। সাথে সাথে ভোকেশনার ট্রেনিং নিতে হবে, কারিগরি শিক্ষা নিতে হবে যেন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়।

 

সরকার প্রধান বলেন, শুধু বিএ, এমএ পাশ করলে হবে না। চাকরির পেছনে ঘুরলে হবে না। নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। নিজেরা যেন চাকরি দিতে পারে সেভাবে নিজেদের কাজ করতে হবে। আমরা সেইভাবে এদেশের যুব সমাজকে গড়ে তুলতে চাই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *