মুজিব ভক্তদের বিনামূল্যে চা পান করাচ্ছেন হারুন

মিজানুর রহমান, শেরপুর প্রতিনিধি: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দোকানের নামকরণ করে মুজিব ভক্তদের বিনামুল্যে চা পান করাচ্ছেন হারুন অর রশিদ নামে এক যুবক। ওই দোকানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোর’।

 

জানা যায়, হারুন অর রশিদ শেরপুর সদর উপজেলার বাজিতখিলা গ্রামের মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে। হারুন ১ ছেলে ১ মেয়ের জনক। ৩ ভাই ১ বোনের মধ্যে হারুন ৩য়। বোনটির বিয়ে দেওয়ার পর অন্য ২ ভাই বিবাহ করে আলাদা সংসার করছে। বাবা আব্দুল মালেক বেশ আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ মাসহ বর্তমানে ৫ জনের সংসার হারুনের।

 

জীবিকার তাগিদে ছোট বেলায় হারুন ঢাকায় চলে যায়। দীর্ঘদিন জুতার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। কাজের ফাঁকে ফাঁকে কারখানার পাশে থাকা আওয়ামী লীগের অফিসে গিয়ে নেতাদের কাছ থেকে বঙ্গবন্ধুর সংগ্রামী জীবন সম্পর্কে জানতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয় হারুন।

 

৫ বছর আগে সে কারখানার কাজ বাদ দিয়ে নিজ গ্রামে চলে আসে। গ্রামে এসেই তার লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতেই মধ্য কুমরী গ্রামের বাজিতখিলা গাজীরখামার রোডে তার ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেন। তার পরিবারের সদস্যদের বেঁচে থাকা ও জীবন জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ওই দোকানটি। দোকানটি পরিচালনা করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোন রকমে চলে তার সংসার। সেই সাথে ব্যবসার কিছু মুনাফা থেকে মুজিব ভক্তদের বিনামুল্যে চা খাওয়ান তিনি।

 

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে দেখিনি, স্বাধীনতা যুদ্ধের অনেক পরে আমার জন্ম। এ দেশে যদি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হতো, তাহলে এ দেশ কখনো স্বাধীন হতো না। আমরা স্বাধীনতা পেতাম না। অথচ আমি যে ইউনিয়নে বসবাস করছি, যে গ্রামটি আমার জন্মস্থান, সে গ্রামটি জামায়াত অধ্যুষিত। ফাঁসিতে মৃত্যদন্ড প্রাপ্ত জামায়াত নেতা কামারুজ্জামানের জন্মস্থান এ গ্রামেই।

 

ফলে এ গ্রামটির আরও একটি অলিখিত নাম রয়েছে দ্বিতীয় পাকিস্থান। ওই নামটি আমি ঘোচাতে চাই। সে কারণেই ‘বঙ্গবন্ধু নাইট স্টোর’ নাম দিয়ে দৈনিক আমার ব্যবসার আয় থেকে প্রতিদিন ৬০/৭০ জনকে বিনা টাকায় চা পান করাই। এছাড়া করোনাকালীণ সময়ের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত যাহারা মাস্ক ছাড়া আমার দোকানে আসে চা খেতে, তাদেরকে আমি বিনামূল্য মাস্ক দেই। আমি একদিনে হয়তো এ গ্রামটিকে জামায়াত-শিবির মুক্ত করতে পারবো না। তবে আমি চেষ্টা চালিয়ে যাবো আজীবন।

 

৮ম শ্রেনী পর্যন্ত পড়ালেখা করা হারুনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সরকার পরিবর্তন হলে এলাকায় টিকতে না পারলে আবার না হয় দেশের জন্য, আমার প্রাণের নেতা, আমার স্বপ্ন জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্য যুদ্ধ করে নিজের জীবনটাকে বিলীয়ে দিবো। তবুও দেশ বিরোধীদের কাছে মাথানত করবো না।

 

মানবাধিকার কর্মী মইনুল হোসেন প্লাবন বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি হারুনের অসীম ভালবাসা আমাদের আরও অনুপ্রাণিত করে তুলে। তরুণ সমাজ বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে অবগত হয়। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক বাড়ানোর যে সিদ্ধান্তটি হারুন নিয়েছে, নিঃসন্দেহে তা প্রশংসার দাবিদার। আমি তার ওই ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উত্তর উত্তর সাফল্য কামনা করছি।

 

শেরপুর সদর উপজেলা কৃষক লীগের সভাপতি আল হেলাল জানান, আমি তার দোকানের ব্যাপারে জানি। মাঝে মধ্যে তার দোকানে গিয়ে চা খেয়ে আসি। তার উদ্দেশ্যটি মহৎ বলেই মনে হচ্ছে।

 

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, বাজিতখিলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমির আলী সরকার জানান, যুবক হারুনের দোকানটির আমি উপস্থিত থেকে উদ্বোধন করেছিলাম। তার পর থেকে দোকানটি ভালভাবেই চলছে। তার ওই দোকানের প্রচার-প্রচারণা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমি তার ওই উদ্দেশের সফলতা কামনা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *