নজর২৪ ডেস্ক- বাবা-মা ও দু’বোনকে হারিয়ে কাঁদছে মীম আক্তার (৯)। তাকে সান্তনা দেয়ার কেউ নেই। বাবা-মা ও দু’বোনের লাশ নিয়ে বাড়ি যেতে হবে তাকে। অথচ কথা ছিল দাদির লাশ দাফন করে মা-বাবার সাথে বাসায় ফিরবে। কিন্তু তা আর হলো না। চিরতরে একা হয়ে গেল মীম।
মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ি ঘাট সংলগ্ন এলাকায় স্পিডবোট ও বালুবোঝাই বাল্কহেডের সংঘর্ষের ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যায় মীম। এ ঘটনায় তার বাবা-মা ও দু’বোন নিহত হয়েছে।
তারা হলেন মীমের বাবা মনির হোসেন (৩৮), মা হেনা বেগম (৩২), বোন সুমি আক্তার (৬) ও রুমি আক্তার (৪)।ঢাকার মগবাজারে থাকত মীম ও তার পরিবার। তার দাদার বাড়ি খুলনায়।
রোববার রাতে মীমের দাদি মারা যান। লাশ দাফন করতে বাবা-মা ও দু’বোনের সাথে খুলনার তেরখাদা উপজেলার পারখালি গ্রামে যাচ্ছিল মীম। যাওয়ার পথে ঘটে এ দুর্ঘটনা। এখন দাদির সাথে বাবা-মা ও দু’বোনের লাশ দাফন করতে হবে মীমকে। আপন বলতে কেউ রইল না তার।
একই দুর্ঘটনায় স্বামী আরজু মিয়া ও দেড় বছরের ছেলে ইয়ামিনকে হারিয়ে দিশেহারা আদুরি বেগম। আদুরির বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার মাইগ্রো গ্রামে। স্বামী-সন্তান নিয়ে ঢাকার হাসনাবাদে থাকতেন। দুর্ঘটনায় ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার রাতে আদুরির মা মনোয়ারা বেগম মারা যান। মায়ের লাশ দেখতে স্বামী-সন্তান নিয়ে গ্রামে যাচ্ছিলেন। সকাল ৬টার দিকে ৩২ যাত্রী নিয়ে স্পিডবোট শিমুলিয়া ঘাট থেকে শিবচরের বাংলাবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। সাড়ে ৬টার দিকে বাংলাবাজার ঘাটে নোঙর করা বালুবোঝাই বাল্কহেডে ধাক্কা খায় স্পিডবোট।
এতে ঘটনাস্থলেই ২৬ যাত্রী প্রাণ হারান। স্থানীয় লোকজন পাঁচ যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেন। সেখানে আরো একজনের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লাশ উদ্ধার করে কাঁঠালবাড়ির ইয়াছিন মাদবরকান্দি গ্রামের দোতরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখেন।
