সাংবাদিক রতনকে গ্রেফতার না করায়, তার কিছু হলে দায় পুলিশের- প্যানেল মেয়র

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো: সাংবাদিক রতন সরকারের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার ৬০ ঘণ্টা পার হলেও এখনো তাকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। সাংবাদিক রতন সরকার পুলিশের ধরা ছোয়ার বাহিরে থাকায় উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করেছে রংপুর সিটি কর্পোরেশন পরিষদ।

 

একই সঙ্গে রতন সরকার তার শত্রু পক্ষের দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকেই বহন করতে হবে বলে সাংবাদিক সম্মেলনে সাফ জানিয়ে দিলেন সিটি কর্পোরেশনের প্যানেল মেয়র মাহমুদুর রহমান টিটু। মঙ্গলবার দুপুরে রংপুর সিটি কর্পোরেশন হলরুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে প্যানেল মেয়র-২ মাহমুদুর রহমান টিটু এ উদ্বেগ ও শঙ্কার কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে গত ২২ এপ্রিল দুপুরে সাংবাদিক রতন সরকার ও জুয়েল আহমেদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। কিন্তু ওই দুই সিনিয়র সাংবাদিকের মধ্যকার সেই অপ্রীতিকর ঘটনাটিকে সাংবাদিক রতন সরকার ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা এবং রংপুর সিটি কর্পোরেশন পরিষদের ওপর চাপিয়ে মিথ্যাচারে লিপ্ত হন।

 

সাংবাদিক রতন সরকার ওইদিন সিটি কর্পোরেশনের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে বলেন, রংপুর সিটি মেয়র প্রেস ক্লাবের কতিপয় নীতিহীন সাংবাদিককে কিনে তাকে হত্যার চেষ্টা করেছেন। জনগণের জন্য সরকারের দেয়া টাকার অনিয়ম করেছেন।

 

দুর্নীতির রিপোর্ট করায় তাকে মানুষ দিয়ে হত্যার চেষ্টা করছেন ও রংপুর প্রেস ক্লাবকে লাখ লাখ টাকা দিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন রকম ষড়যন্ত্র করেছেন। শুধু তাই নয়, সাংবাদিক রতন সরকার তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে এই বলে পোস্ট দেন, ‘মাননীয় মেয়র টাকা দিয়ে প্রেসক্লাবের কতিপয় নীতিহীন সাংবাদিককে কিনে ফেলতে পারেন। রাজাকারের বাচ্চাকে দিয়ে আমাকে হত্যার চেষ্টা করতে পারেন। কথা দিচ্ছি জনগণের জন্য সরকারের দেয়া এক টাকার অনিয়ম আপনাকে করতে দেবো না ইনশাআল্লাহ। এটা আমার মাতৃভূমির কসম, আমার মায়ের, বাবার কসম।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র আরও বলেন, সাংবাদিক রতন সরকার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্নভাবে প্রতিনিয়তই মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও মনগড়া বক্তব্য দিয়ে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সিটি কর্পোরেশন পরিষদের মানহানি করে আসছেন। সে কারণে পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়রের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এবং বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে সাংবাদিক রতন সরকারের দেয়া মিথ্যাচার, বানোয়াট ও মনগড়া তথ্যের প্রমাণ উপস্থাপন করে গত ২৪ এপ্রিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন মেয়র।

 

সংবাদ সম্মেলনে প্যানেল মেয়র বলেন, আমরা আরও উদ্বিগ্ন এ কারণে যে, রংপুর প্রেসক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী সাংবাদিক সংগঠনের সাথে যুক্ত দেশের প্রথম শ্রেণীর প্রেস, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদের নীতিহীন এবং লাখ লাখ টাকায় সাংবাদিকদের কিনে নেয়ার মতো মানহানিকর বক্তব্য তার ফেসবুক আইডি ও বিভিন্ন ফেসবুক পেজে সরাসরি উপস্থাপন করেছেন। যা চারণ সাংবাদিক মোনাজাত উদ্দিনের রংপুরে সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের মর্যাদাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে বলেও আমরা মনে করি।

 

সুনির্দিষ্ট ডকুমেন্ট সংযোজন করে আইসিটি আইনে মামলা করার ৬০ ঘণ্টা অতিবাহিত হলেও সাংবাদিক রতন সরকারকে এখনো পুলিশ গ্রেফতার না করায় আমরা উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত।

 

প্যানেল মেয়র বলেন, ইতোমধ্যে ২৫ এপ্রিল রাতে সিটি পরিষদের ৩৩ জন সাধারণ এবং ১১ জন মহিলা কাউন্সিলর কোতোয়ালি থানায় সশরীরে গিয়ে পুলিশের কাছে সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেফতারের দাবি জানান। থানার অফিসার ইনচার্জ ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যার মধ্যেই তাকে গ্রেফতারের জন্য আমাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তাকে গ্রেফতার করেনি।

 

সুনির্দিষ্ট আইনে মামলা হওয়ার পরেও সাংবাদিক রতন সরকারকে গ্রেফতার না করার বিষয়টি রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যর্থতা। যা সমাজের প্রত্যেকটি মানুষকেও উদ্বিগ্ন করেছে। তারাও শঙ্কিত রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে।

 

মাহমুদুর রহমান টিটু বলেন, ইতোমধ্যে সাংবাদিক রতন সরকার তার ফেসবুক আইডিতে সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের মিথ্যা, বানোয়াট এবং উস্কানিমূলক পোস্ট দিয়ে শত্রুতা তৈরি করে রেখেছেন। তাকে গ্রেফতার না করায় যদি তিনি তার শত্রু পক্ষের দ্বারা ক্ষতির সম্মুখীন হন তাহলে তার সম্পূর্ণ দায়ভার পুলিশ প্রশাসনকেই বহন করতে হবে। রংপুর সিটি মেয়র ও সিটি পরিষদ তার ক্ষতির কোনো দায়-দায়িত্ব বহন করবে না।

 

এ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে সাংবাদিক রতন সরকারকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে সিটি পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়ে লাগাতার কঠোর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

 

এ সময় সিটি কর্পোরেশনের কাউন্সিলরবৃন্দসহ রংপুরে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিক রতন সরকারের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *