মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: জন্মের ৬ দিনের মাথায় মা হারা হয় অবুঝ নবজাতক। পারিবারিক কলহের জেরে অবুঝ শিশুটির মা টাঙ্গাইল জেলা কালচারাল কর্মকর্তা খন্দকার রেদওয়ানা ইসলামকে নির্মমভাবে হত্যা করে পাষন্ড বাবা (ব্যাংক কর্মকর্তা) মো. দেলোয়ার হোসেন।
জন্মের পর থেকেই শিশুটিকে কুমুদিনী হাসপাতালের শিশু নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে লালন-পালন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সে সময় হাসপাতালের পক্ষ থেকে শিশুটির নাম রাখা হয় ‘রোদেলা’। শিশুটির বয়স ১ মাস ৫দিন।
রোববার (২৫এপ্রিল) দুপুরে কুমুদিনী হাসপাতাল থেকে টাঙ্গাইল জেলা শিশু কল্যাণ বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক শিশু আইন মোতাবেক বর্ধিত পরিবার হিসেবে তার মামা (নিহত কর্মকর্তার ভাই) খন্দকার মো. আরশাদুল আবিদ গোলাম রাব্বি ও তার স্ত্রী সাবিহা ইসলামের কাছে শিশুটিকে হস্তান্তর করা হয়। তাদের বাড়ি রংপুর সদর উপজেলার হনুমানতলা গ্রামে।
এসময় মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান, জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মো. শাহ্ আলম, প্রবেশন অফিসার মো. আব্দুল মোতালেব মিয়া, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মো. খায়রুল ইসলাম, কুমুদিনী হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডাঃ এ বি এম আলী হাসান, সহকারি জেনারেল ম্যানেজার অনিমেশ ভৌমিক, ডাঃ মনজ কান্তি বড়ুয়া প্রমুখ।
জেলা সমাজসেবা উপ-পরিচালক মো. শাহ্ আলম জানান, জেলা সমাজসেবা অফিস থেকে থেকে শিশুটির ১৮ বছর হওয়া পর্যন্ত তদারকি করা হবে। তাকে লালন-পালনে যদি তারা ব্যর্থ হয় তাহলে নিয়মনুযায়ী শিশুটিকে তার রক্তসম্পর্কীয় অথবা আত্মীয়ের বন্ধনে আবদ্ধ (ইচ্ছুক) আত্মীয়ের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।
কালচারাল কর্মকর্তা হত্যা ঘটনার মূল রহস্য পারিবারিক কলহ ছিলো বলে জানান মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. শাহজাহান খান। তিনি বলেন, ময়না তদন্তের প্রাপ্ত রিপোর্টের ফলাফলে জানা যায়, ওই কর্মকর্তাকে তার স্বামী হাত দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।
উল্লেখ করেন, আসামীকে গ্রেপ্তারের সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
