শাহীন মাহমুদ রাসেল, কক্সবাজার প্রতিনিধি: কারণে-অকারণে গত কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে ভেসে আসছে মৃত কাছিম, ডলফিন ও তিমি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত জানা যায়নি এসব সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর রহস্য।
শুধু তাই নয়, সপ্তাহ দেড়েক আগে কক্সবাজারের হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসা দুটি তিমির মৃত্যুর কারণও অজানা রয়েছে এখনো। পাশাপাশি গত ৯ ও ১০ এপ্রিল ১২ ঘণ্টার ব্যবধানে হিমছড়ি সৈকতে ভেসে আসা বিশাল আকৃতির দুটি মৃত তিমির ঘটনার সপ্তাহের বেশি সময় পার হলেও মৃত ওই তিমি দুটির নমুনা লকডাউনের কারণে পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো যায়নি বলে এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি জানিয়েছেন।
তবে গবেষকরা বলছেন, সাগরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে উপকূলে এসব মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসছে। সমুদ্র দূষণের মাত্রা বাড়ায় সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর কারণ কিনা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি এসব প্রাণীর সুরক্ষার দাবি পরিবেশবাদীদের। আর বারবার কক্সবাজার উপকূলে মৃত প্রাণী ভেসে আসার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে বলে জানিয়েছে সামুদ্রিক গবেষণা ইনস্টিটিউট।
মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আশরাফুল হক গণমাধ্যমকে বলেন, হিমছড়ি সৈকতে পর পর দুটি মৃত ভেসে এসেছে। এরপর দুটির ঘটনাস্থলে গিয়ে তিমি দুটির শরীর পর্যবেক্ষণ, নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ করেছি।
নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে আশরাফুল হক বলেন, তিমির শরীর থেকে সংগৃহীত নমুনাগুলো পরীক্ষার জন্য ঢাকায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পিসিআর ল্যাবে পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু লকডাউনের কারণে নমুনাগুলো সেখানে পাঠানো সম্ভব হয়নি।
নমুনাগুলো কক্সবাজারের পেঁচার দ্বীপে মেরিন একাডেমির পিসিআর ল্যাবে সংরক্ষিত আছে। তা ছাড়া তিমির নমুনা পরীক্ষার জন্য ‘প্রাইমার কিট’ প্রয়োজন। কিন্তু কিট দেশে নেই। বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। সুতরাং ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেতে আরও কিছুটা সময় অপেক্ষায় থাকতে হবে।
কক্সবাজার বন ও পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের সভাপতি দীপক শর্মা দিপু বলেন, ‘গত কয়েক বছর ধরে কক্সবাজার উপকূলে মৃত সামুদ্রিক কাছিম, ডলফিন ও তিমি ভেসে আসছে, যা নিয়ে আমরা চিন্তিত। তবে সমুদ্রে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার কারণে এ ধরনের সামুদ্রিক প্রাণী মারা যাচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।’
সেভ দ্যা ন্যাচার অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আ ন ম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত কয়েক বছর থেকে অব্যাহতভাবে সামুদ্রিক প্রাণী মারা যেতে দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কেউ এসব প্রাণী রক্ষায় এগিয়ে আসছেন না। তাই বাংলাদেশে সমুদ্র সম্পদ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সমুদ্র কমিশন গঠন করা উচিত বলেও মনে করেন তিনি।
এদিকে তিমির মৃত্যুর কারণ, বালুচরে দেহ পুঁতে ফেলা ও কঙ্কাল সংরক্ষণের জন্য ৯ এপ্রিল রাতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। কমিটিতে পরিবেশ, বন, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও পুলিশ বাহিনীর প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির কাজ কত দূর, জানতে চাইল কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আমিন আল পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, লকডাউনের কারণে নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিমি দুটির শরীরে পচন ধরেছিল, ছড়িয়ে পড়ছিল দুর্গন্ধ। তাই নমুনা সংগ্রহের পর সৈকতের বালুচরে তিমি দুটি পুঁতে ফেলা হয়েছে। দুই-তিন মাস পর তিমির কঙ্কালগুলো তুলে সংরক্ষণ করা হবে।
