নজর২৪ ডেস্ক- সারাদেশে নেতাকর্মীদের ব্যাপক ধরপাকড়ের মধ্যে সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে হঠাৎ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বাসায় যান হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতারা।
মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে যে বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে, তাতে প্রতীয়মান হয় যে, সরকারের সঙ্গে সমঝোতা চায় সংগঠনটি। কিন্তু, ওই বৈঠকের পরও গ্রেফতার থামেনি, আরো দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর সবুজবাগের বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় হেফাজতে ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সহ-সভাপতি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা কোরবান আলী কাসেমীকে। এবং মধ্যরাতে মোহাম্মদপুর জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় হেফাজতের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীনকে।
জানা গেছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আলোচনায় হেফাজত নেতারা তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
বৈঠকে উপস্থিত একাধিক সূত্র জানায়, সেখানে ঢালাওভাবে গ্রেফতার বন্ধ, সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত ঘটনাগুলোর তদন্ত করে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি এবং কওমি মাদ্রাসা খুলে দেওয়ার কথা বলেছেন হেফাজত নেতারা।
ঢালাওভাবে গ্রেফতারের কারণে ‘ভুল বোঝাবুঝির’ পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও দাবি করেন তাঁরা।
এসময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজত নেতাদের জানান, কোনো ঢালাও গ্রেফতার হচ্ছে না, বরং সাম্প্রতিক সময়ে যেসব সহিংসতা ঘটেছে সেগুলোর ভিডিও ফুটেজ দেখে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, গত ২৭ মার্চ রাতে হেফাজতের কয়েকজন শীর্ষ নেতা পরের দিন হরতাল পালনের অনুমতি চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে বলেন, হরতালের দিন কোনো নাশকতা হবে না এবং বিকেল তিনটার দিকেই তারা হরতালের কার্যক্রম থেকে সরে যাবেন। কিন্তু পরের দিন হরতালের কারণেই দেশজুড়ে প্রায় ৩১টি স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিলো হেফাজত সমর্থকরা।
এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হেফাজত নেতাদের আর বিশ্বাসের দৃষ্টিতে দেখেননি। এরপর একাধিকবার মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ চেয়ে সাড়া পাননি হেফাজতের নেতারা। এই অবস্থার মধ্যে মঙ্গলবার হঠাৎ বৈঠকের সুযোগ পান তাঁরা।
বৈঠকের সূত্রে আরও জানা যায়, হেফাজত নেতারা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন যে, হেফাজত সরকারের প্রতিপক্ষ নয়। সংগঠনটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৈঠকের মূল উদ্দেশ্যই ছিলো ‘সরকারের ভুল’ ভাঙানো। তারা বলছেন, বৈঠকে কাঙ্ক্ষিত সমাধান না এলেও, পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে।
সরকারের কঠোর অবস্থানে কোণঠাসা হেফাজতের নেতারা সমঝোতার অংশ হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের আগে পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একটি গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
এসব বৈঠকের পরও একের পর এক নেতা গ্রেফতার হচ্ছেন। গত এক সপ্তাহে পুরাতন ও নতুন মামলায় সংগঠনটি এক ডজনের বেশি হেভিওয়েট নেতা গ্রেফতার হয়েছেন।
জানা গেছে, হেফাজতে ইসলামের আরও দুই ডজন শীর্ষ নেতা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর টার্গেটে রয়েছেন। তাদের সবাইকে গোয়েন্দা নজরদারি করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
