মামুনুলকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বাগেরহাটে পুলিশের ওপর হেফাজতের হামলা

নজর২৪, বাগেরহাট- বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) সাত পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

 

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর হেফাজতের কর্মী–সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালান।

 

আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন ওসি গোলাম কবির, উপপরিদর্শক (এসআই) ঠাকুর দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাহারুল, লিয়াকত, কনস্টেবল সোহাগ মিয়া, নাজমুল ফকির ও ডিএসবির কনস্টেবল শহিদুল ইসলাম। তাদের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হন। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তাঁরা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

 

খবর পেয়ে ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের কাছে জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চায়। পুলিশ তাদের সারিয়ে দেয়। তখন তাঁরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

 

এতে থানার ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে মোল্লাহাট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

 

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ বলেন, পুলিশের ওপর হামলার খবর শুনে আমি ঘটনাস্থলে রওনা দিয়েছি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জেনেছি, ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানা যাবে।

 

আরও পড়ুন-

নামাজ-রোজা-কোরআন পড়ার সুযোগ চাইলেন মামুনুল হক

 

নজর২৪, ঢাকা- রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নাশকতার অভিযোগে করা মামলায় হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হকের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

 

রিমান্ড শুনানির সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে কথা বলেন মামুনুল। এসময় তিনি আদালতের কাছে ইবাদত করার উপযোগী জায়গায় তাকে রাখার আবেদন জানান। পরে আদালত তাকে আশ্বস্ত করেন তার ইবাদতের বিঘ্ন ঘটবে না।

 

সোমবার (১৯ এপ্রিল) রিমান্ড শুনানি শেষে মামুনুলের পক্ষে আইনজীবী সৈয়দ জয়নাল আবেদীন মেজবাহ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

 

তিনি বলেন, এসময় আদালতে মাওলানা মামুনুল হক কথা বলার জন্য অনুমতি চান। অনুমতি নিয়ে মামুনুল হক বলেন, ‘আমি রমজানে নিয়মিত ইবাদত করি, রোজা রাখি। গতকাল (রবিবার) আমাকে যেখানে রাখা হয়েছে সেটা বসবাস ও ইবাদতের অনুপযোগী। আমি আদালতের কাছে আবেদন জানাই, আমাকে যেন ইবাদতের উপযোগী জায়গায় রাখা হয়।’

 

তখন আদালত বলেন, ‘আপনাকে ইবাদতের উপযোগী জায়গায় রাখা হবে। আপনার কোনও কষ্ট হবে না, ইবাদতের বিঘ্ন ঘটবে না। ’

 

আইনজীবী বলেন, মাওলানা মামুনুলের বিরুদ্ধে মসজিদ থেকে এক ব্যক্তিকে বের করে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগে বলেছে, ওই ব্যক্তিকে বের করে দেওয়ার সময় তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নেওয়া হয়েছে। মূলত এ ধরনের কোনও ঘটনাই ওই ব্যক্তির সঙ্গে ঘটেনি।

 

তিনি আদালতকে বলেন, রবিবার মামুনুলকে গ্রেফতার করার পর তাকে দীর্ঘসময় জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। সেজন্য তাকে আর রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

 

এর আগে সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টা ৯ মিনিটের দিকে তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এদিন ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা।

 

অপরদিকে মামুনুলের আইনজীবী তার রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম দেবদাস চন্দ্র অধিকারী তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

 

রোববার (১৮ এপ্রিল) রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

 

গ্রেপ্তারের পর মামুনুলকে প্রথমে শ্যামলীতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সেখান থেকে প্রথমে তাকে মোহাম্মদপুর থানা ও পরে নেওয়া হয় তেজগাঁও থানায়। রাতে তাঁকে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *