নতুন সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিলেন সোহেল তাজ

নজর২৪ ডেস্ক- মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার লক্ষ্যে ‘প্রহরী একাত্তর’ নামে একটি সংগঠন গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদের ছেলে ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তানজিম আহমদ সোহেল তাজ।

 

তিনি বলেন, আমি রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছি। ফেরা আর সম্ভব না। আমি রাজনীতি বা ক্ষমতা চাই না। দেশের জন্য কাজ করছি। একটি নতুন ও সুন্দর সোনার বাংলা গড়ে তুলতে চাই।

 

শনিবার রাতে মুজিবনগর সরকার দিবস উপলক্ষে ফেসবুক লাইভে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ ঘোষণা দেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সাবেক সভাপতি জার্মান প্রবাসী মোফাজ্জল হোসেন সুমনের ফেসবুক পেজ থেকে সোহেল তাজের সঙ্গে প্রায় ১ ঘণ্টা ২৫ মিনিটের লাইভ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

 

অনুষ্ঠানে সোহেল তাজ জানান, ১৭ এপ্রিল শুধু মুজিবনগর সরকার দিবস নয়, বাংলাদেশের প্রজাতন্ত্র দিবস হিসেবে উদযাপনের দাবি করছেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নিউক্লিয়াস থেকে নতুন প্রজন্মকে যেন খোরাক দিতে পারেন এবং তারা যেন তা ব্যবহার করে নতুন একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারে, আজীবন সে চেষ্টা করে যাবেন তিনি। যে সুন্দর বাংলাদেশে ন্যায়বিচার ও সুশাসন থাকবে, মেধাভিত্তিক সমাজ থাকবে এবং সকল জনগণ সমানভাবে স্বাস্থ্যসেবা পাবে। তিনি বিশ্বাস করেন সেটা বাস্তবায়ন সম্ভব হবে, যদি নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ও চেতনাকে তুলে ধরা যায়।

 

তিনি জানান, সেই লক্ষ্যে তিনি একটি অরাজনৈতিক সংগঠন গড়ে তুলছেন। মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করে এই সংগঠনের মাধ্যমে যারা নব্য বুদ্ধিজীবী ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতকারী তাদের প্রতিহত করা হবে। ‘প্রহরী একাত্তর’ এর সদস্যরা প্রহরীর মতো সজাগ থেকে কাজ করবে। এই সংগঠনের আরো কাজ থাকবে ১৭ এপ্রিলকে যেন প্রজাতন্ত্র দিবস করা হয়, স্কুল-কলেজের পাঠ্যসূচিতে মুক্তিযুদ্ধের এই ইতিহাস তুলে ধরা হয়।

 

সোহলে তাজ আরও জানান, তিনি খুবই মর্মহত হয়েছেন স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনকে কেন্দ্র করে। মর্মাহত হয়ে তিনি মনে করেছেন এই সংগঠন এখন প্রয়োজন। মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শে যারা বিশ্বাস করেন, তাদের এখন রুখে দাঁড়াবার সময়, সঠিক ইতিহাস উপস্থাপনের সময়।

 

তিনি বলেন, তার বাবা দেশের জন্য যুদ্ধ করে গেছেন। তার বিনিময়ে তার পক্ষ থেকে তার সন্তানরা কিছুই চান না। অর্থ কিংবা ক্ষমতা চান না। শুধু অবদানের যথাযথ স্বীকৃতিটা চান। তিনি মনে করেন, আমাদের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনে সুবর্ণ সুযোগ ছিল দেশের মুক্তিযুদ্ধের সকল শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ করার এবং দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করার। এতে আরো বৃহত্তর ঐক্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ ছিলো। তিনি আশা করেন আমাদের দেশের নব্য ইতিহাসবিদ ও বুদ্ধিজীবীদের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে।

 

সোহেল তাজ বলেন, ইতিহাস আড়াল করে কোনো জাতি এগিয়ে যেতে পারে না। ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্মকে আড়াল করা একটা ক্রাইম। কারা সঠিক ইতিহাস থেকে নতুন প্রজন্মকে বঞ্চিত করতে চাইছে তাদেরকে চিহিৃত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *