নজর২৪ ডেস্ক- বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেম। অতঃপর শারীরিক সর্ম্পক। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাতের চেষ্টা, তাতে কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে নিয়ে গর্ভপাত করানো হয়- বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগে মামলার আবেদন করেছেন এক তরুণী।
সোমবার (১৯ এপ্রিল) রাতে মেট্রোপলিটন এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ দেন ওই তরুণী। ওই তরুণী অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা জসিম উদ্দিনের আত্মীয়।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতির সঙ্গে ৮ বছর ধরে সর্ম্পক চলে আসছিল ওই তরুণীর। সম্পর্কের বিভিন্ন সময় শারীরিক সম্পর্ক করার প্রস্তাব দেয়। ওই তরুণী প্রস্তাবে রাজি না হলে জসিম উদ্দিন বিয়ের প্রলোভন দেখায়। এ সময় জসিম উদ্দিন বিভিন্ন ধরনের উপহার সামগ্রী দিয়ে আকৃষ্ট ও বিশ্বাস অর্জন করতে চায়। সেই সূত্র ধরে ২০১৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর ওই তরুণীর বাসায় বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণ করেন। এতে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তরুণী।
জসিম উদ্দিন এই খবর শুনে গর্ভপাত করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু রাজি না হলে সমাজে মুখ দেখানোর উপায় থাকবে না বলে বোঝায়। শেষে গর্ভপাত করার জন্য পিল এনে দেয় জসিম। এতেও কাজ না হলে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে ডা. তানিয়া আফরোজের মাধ্যমে গর্ভপাত করান।
পরবর্তীতে ঢাকা, বরিশালের বিভিন্ন হোটেল ও রেস্তোরাঁয় দেখা করার সময় বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ৫ মার্চ রাত সাড়ে ১১টায় তরুণীর বাসায় গিয়ে সারারাত এক সঙ্গে থাকেন জসিম উদ্দিন। এ সময় তরুণীকে তিনবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।
এর দুইদিন অতিবাহিত হওয়ার পর বিয়ের জন্য চাপ দিলে জসীম তরুণীকে জানায় সে বিয়ে করেছে। এ ঘটনায় নির্যাতিতা ধর্ষণ মামলার অভিযোগ দেন থানায়।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি কমলেশ চন্দ্র হালদার জানান, তরুণীর লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পাওয়া গেলে অবশ্যই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযুক্ত জসিম উদ্দিন বলেন, গত রোববার বিয়ে করেছেন। এই খবরে তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ওই তরুণীকে ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক অভিযোগ দায়ের করিয়েছেন। তিনি বারবার বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ।
