নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হককে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি টিম।
রবিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর পৌনে ১টার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদরাসা থেকে তাঁকে গ্রেফতারের পর ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ কমিশনারের (ডিসি) কার্যালয়ে আনা হয়। পরে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয় তেঁজগাও থানায়।
ডিসি’র কার্যালয় থেকে বের করে গাড়িতে তোলার সময় মামুনুল হকের ছবি তোলার চেষ্টা করেন গণমাধ্যমকর্মীরা। এই সময় তিনি মুখের মাস্ক খুলে মুচকি হাসেন। অনেকটাই নির্ভার দেখাচ্ছিলো তাঁকে। হেঁটে গাড়ি পর্যন্ত যেতে যেতে ফিসফিস করে কিছু একটা ‘পড়ছিলেন’ তিনি।
এর আগে ডিসি’র কার্যালয়ে নেয়ার সময় তাকে তসবীহ্ জপতে দেখা যায়।
এর আগে দুপুর ১২টা থেকে মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া মাদ্রাসা এলাকায় গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা এবং দাঙ্গা পুলিশের সদস্যরা অবস্থান নেন। গ্রেপ্তারের পর মামুনুল হককে প্রথমে শ্যামলীতে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেখান থেকে বেলা দুইটায় নেওয়া হয় তেজগাঁও থানায়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তিনি সেখানেই আছেন।
তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) হারুন অর রশিদ বলেন, ২০২০ সালে মোহাম্মদপুরে একটি ভাঙচুরের মামলায় মামুনুলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা আছে মতিঝিল, পল্টন ও নারায়ণগঞ্জে। পরে সেসব সমন্বয় করা হবে। আগামীকাল সোমবার মামুনুলকে আদালতে তোলা হবে।
তেজগাঁও পুলিশের একটি সূত্র বলেছে, ২০২০ সালের ৭ মার্চ মোহাম্মদপুর থানায় হওয়া মামলায় মামুনুল হক সাত নম্বর আসামি। মামলার প্রাথমিক তথ্যবিবরণীতে তাঁর বাবার নাম ও ঠিকানা অজ্ঞাত লেখা আছে।
মোহাম্মদপুরের চাঁন মিয়া হাউজিংয়ের বাসিন্দা জি এম আলমগীর শাহীন বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।
আরও পড়ুন-
ইফতার শেষে তেজগাঁও থানায় নামাজ পড়লেন মামুনুল হক
নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও থানায় নেয়া হয়। সেখানেই তিনি ইফতার ও মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। থানা পুলিশ তার ইফতারের ব্যবস্থা করেন।
রোববার (১৮ এপ্রিল) সন্ধ্যায় তেজগাঁও জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহমুদ খান এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দুপুরে গ্রেফতারের পর তেজগাঁও ডিসি স্যারের কার্যালয় থেকে তেজগাঁও থানায় মামুনুল হককে আনা হয়। যেহেতু তিনি রোজা ছিলেন সেহেতু থানা পুলিশ তার ইফতারের ব্যবস্থা করে।
আজকে মামুনুলকে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে নেয়া হবে কি-না জানতে চাইলে মাহমুদ খান বলেন, আমাদের তেজগাঁও বিভাগের ঊর্ধ্বতন স্যারেরা থানায় আসবেন। এরপর সিদ্ধান্ত হবে তাকে আজকে ডিবিতে নেয়া হবে কি-না।
এদিকে, তেজগাঁও থানা সূত্র থেকে জানা যায়, ইফতারের আগে মামুনুলের জন্য ইফতারের ব্যবস্থা করা হয়। এরপর ইফতার শেষে তিনি থানাতেই নামাজ আদায় করেন। সন্ধ্যার পর থানায় তাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ডিবিতে হস্তান্তর করা হবে।
