নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার অভিযানে এবার ধরা পড়েছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব।
আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বারিধারা মাদরাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)
আরও পড়ুন-
মামুনুলের বিষয়ে হেফাজতের সিদ্ধান্ত জানালেন বাবুনগরী
মামুনুল হক লকডাউনেই গ্রেপ্তার?
‘কতদিন জেলে রাখবে?’, গ্রেপ্তারের আগে হেফাজত নেতা মুফতি সাখাওয়াত
এর আগে দুপুরে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদকে। এ নিয়ে হেফাজতে ইসলামের সাত নেতাকে গ্রেপ্তার করল ঢাকার ডিবি
এদিকে জুনায়েদ আল হাবিবকে গ্রেপ্তারের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মামুনুল হক।
সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক স্ট্যাটাসে বলেন, ‘হেফাজতের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর শাখার সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিবকে আটক করেছে। লকডাউনটাকে এভাবে প্রহসনে পরিণত করে জনগণকে খুব বাজে একটা বার্তা দেয়া হল। এটা কাপুরুষোচিত ও অযাচিত।’
এর আগে একের পর এক শীর্ষ নেতাকর্মীদের গ্রেফতার নিয়ে শনিবার দুপুরে আরেকটি স্ট্যাটাস দেন মাওলানা মামুনুল হক। সেখানে তিনি বলেন, সহিংসতার দায় হেফাজতের ওপর চাপানো উদোর পিন্ডি বুদোর ঘারে চাপানোর নামান্তর! ২৭ মার্চ থেকে ২রা এপ্রিল বিক্ষোভ, হরতাল, দোয়া ও প্রতিবাদ সমাবেশ হেফাজতে ইসলাম আহুত প্রতিটি কর্মসূচী পালিত হয়েছে প্রশাসনের অনুমোদন স্বাপেক্ষে এবং শান্তিপূর্ণভাবে।
ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি আরও বলেন, ২৬শে মার্চের গন্ডগোলের দায় কোনোভাবেই হেফাজতের উপর বর্তায় না। এ দায় হেফাজতের উপর চাপানো সুস্পষ্ট অন্যায়।হরতালের পূর্বাপর বি.বাড়িয়ায় সংঘটিত সহিংসতার সাথে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, সেটা প্রশ্ন স্বাপেক্ষ।
তিনি বলেন, সেখানে ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় কোন্দল ও তাদের কর্তৃক হামলার কথা খোদ প্রশাসনও অস্বীকার করে না। সুতরাং বি.বাড়িয়ার সহিংসতা ও জ্বালাও-পোড়াওয়ের দায় হেফাজতের ওপর চাপিয়ে দেওয়াও উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো বৈ কিছুই নয়।
‘হেফাজতের কর্মসূচী চলাকালীন ৪ দিনে ঢাকায় তো একটা ইট-পাটকেলও ছোড়া হয়নি। পুলিশের নিরাপত্তা ও বেষ্টনীর মধ্যেই সবগুলো কর্মসূচী পালিত হয়েছে। তাহলে রোযা-রমযানের দিন ঢাকায় কেন ধরপাকড় চলছে।’
মামুনুল হকের প্রশ্ন, আজিজুল হক ইসলামাবাদী কাকে আঘাত করেছে? মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী কোথায় হামলা করেছে? মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাযী কার মাথায় বাড়ি মেরেছে? মাওলানা যুবায়ের আহমদ কার বারাভাতে ছাই দিয়েছে? মাওলানা ইলিয়াস হামিদী, মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী, মুফতী বশিরুল্লাহ, মাওলানা শরিফুল্লাহরা কোথায় কার উপর হাত তুলেছে?
করোনা পরিস্থিতির ভয়বহতায় লকডাউনের সময় এভাবে আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গ্রেফতার অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, নিজ দেশে যারা পরবাসীর মত থাকতে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন, তাদের কথা ভিন্ন। অন্যথায় আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ঈমানদারগণ এটা নিরবে মেনে নিতে পারে না। এই পরিস্থিতিতে মনে হচ্ছে জুলুমের মুক্ত বাতাস থেকে প্রতিবাদের বন্দিত্বই হাজার গুনে শ্রেষ্ঠ!
