নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহকারী মহাসচিব মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপির) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
বুধবার (১৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় আগে তাঁকে লালবাগ কেল্লার মোড়ে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করেন ডিবি’র সদস্যরা।
গ্রেপ্তার হওয়ার কিছুক্ষণ আগে একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের গ্রেপ্তার হওয়ার সম্ভবনার বিষয়ে কথা বলেন মুফতি সাখাওয়াত। বলেন, ‘সরকার চাইলে তো গ্রেপ্তার এড়ানো যাবে না। তবে সরকার কত গ্রেপ্তার করবে, কতদিন জেলে রাখবে?’
মুফতি সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মামলা, গ্রেপ্তার সবকিছু আইনিভাবে মোকাবেলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় আইনজীবীদের নিয়ে দুই থেকে তিন সদস্যের আইনি সহায়তা সেল গঠন করা হবে। হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীদের মামলা ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে তাঁরা কাজ করবেন।
বাংলাদেশ ফরায়েজী আন্দোলনের সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ হাসানের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হেফাজত বড় সংগঠন। কেউ যদি চলে যায় তাতে সংগঠনের ওপর প্রভাব পড়বে না। তিনি থাকা অবস্থায়ও আলাদা প্রভাব ছিলো না।
মুফতি সাখাওয়াতকে গ্রেফতারের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাহবুব আলম বলেন, ‘সম্প্রতি হেফাজতে ইসলাম আন্দোলনের নামে যে তাণ্ডব চালিয়েছে এসব ঘটনায় রাজধানীর একাধিক থানায় কয়েকটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি মামলায় মুফতি শাখাওয়াত হোসাইন রাজীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।’
এদিকে, গত চার দিনে হেফাজতের চার কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ এপ্রিল) মধ্যরাতে হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। চট্টগ্রামের হাটহাজারী থেকে র্যাব ও ডিবির যৌথ অভিযানে আজিজুল হককে গ্রেফতার করা হয়।
মঙ্গলবার (১৩ এপ্রিল) রাতে অভিযান চালিয়ে যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-প্রচার সম্পাদক মুফতি শরিফ উল্লাহকে গ্রেফতার করে ঢাকা মেট্রোপলিটন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। ওয়ারী গোয়েন্দা বিভাগের একটি দল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে শরিফ উল্লাহকে গ্রেফতার করেছে।
মঙ্গলবার রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকা থেকে হেফাজতের নারায়ণগঞ্জ জেলার সাধারণ সম্পাদক মুফতি বশির উল্লাহকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
