ধোলাইপাড়ে নয়, বঙ্গবন্ধুর সেই ভাস্কর্য অন্য জায়গায়

নজর২৪ ডেস্ক- হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধোলাইপাড় মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের কাজ। সড়িয়ে ফেলা হয়েছে নির্মাণ সামগ্রী। এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের অংশ হিসেবে ভাস্কর্যটি নির্মাণ ও স্থাপনের কাজ চলছিল।

 

প্রকল্পটির পরিচালক জানিয়েছেন, ভাস্কর্যটি অন্যত্রে স্থাপন করা হতে পারে। এছাড়া ভাস্কর্যের ডিজাইন বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট থেকে অনুমোদন হয়ে আসেনি। যে কারণে আপাতত ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্য স্থাপনের কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

ভাস্কর্যের বিরোধিতাকারী ধর্মভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের একজন নেতা দাবি করেছেন, তাদেরকে জানানো হয়েছে ভাস্কর্যটি আর সেখানে বসছে না। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনও আসেনি।

 

হেফাজত যখন ভাস্কর্য নির্মাণের বিরোধিতা করে মাঠে নামে, সে সময় এখানে ভাস্কর্য হবেই ঘোষণা দেয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলছেন, সেখান ভাস্কর্য হবে না, এই বিষয়টি তার জানা নেই।

 

সুপ্রিমকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী এই খবর জেনে আশাহত হয়েছেন। তিনি একে দেখছেন ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর কাছে নৈতিক পরাজয় হিসেবে। বলেছেন, এর পরিণতি কখনও ভালো হবে না।

 

গত ২ এপ্রিল রাতে ধোলাইপাড় মোড়ে টিন ও ত্রিপল দিয়ে বানানো বেষ্টনীর ত্রিপলের অংশটুকু খুলে ফেলা হয়। ভেতর থেকে নির্মাণ সামগ্রীও সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে কেন তা সরানো হয়েছে তা জানে না ধোলাইপাড় মোড় সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা।

 

ধোলাইপাড় মোড়ে ডাব বিক্রি করেন রাজ্জাক মিয়া। তিনি বলেন, ‘বাতাসে উপরে একদিকের ত্রিপাল ছিইড়া গেছিল। রাতে ওদের (প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা) লোকজন এসে সবডাই খুলে নিছে। পরে শুনলাম ভেতরের জিনিসপত্র নাকি নিয়ে গেছে।’

 

চীনে তৈরি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বসানোর জন্য নির্ধারিত স্থান ধোলাইপাড় মোড় থেকে নির্মাণ সামগ্রী সড়িয়ে নেয়ার প্রসঙ্গে প্রকল্প পরিচালক সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ‘অনুমতি পেলে আবার কাজ শুরু হবে।’

 

ভাস্কর্যের ডিজাইন অনুমোদনের জন্য বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের অনুমোদন লাগবে। ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্যটি স্থাপনের জন্য ভিত্তি নির্মাণ শেষ হয়েছে। ভাস্কর্য স্থাপনের অন্যান্য কাজও হাফডান হয়ে আছে। বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্টের চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে আবার কাজ শুরু হবে।

 

ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও সড়ক ও জনপথ বিভাগের এই অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী সবুজ উদ্দিন খান বলেন, ‘অন্যত্র স্থাপনের একটা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে এখনই বলা যাচ্ছে না।’

 

কী কারণে ধোলাইপাড়ের নির্মাণাধীন ভাস্কর্যটির কাজ আটকে আছে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, ‘কোনো কারণে আটকে থাকার কথা আমি শুনি নাই। তবে আমি অ্যাকুরেটলি বলেতে পারব না।’

 

সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বিচারপিত এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ভাস্কর্য নির্মাণের কাজটি যদি বন্ধ হয়ে যায়, এটা হবে আমাদের জন্য আত্মঘাতী, সত্যি সত্যি আত্মঘাতী।’

 

তিনি বলেন, ‘২০১৩ সালে ওদের (হেফাজতে ইসলাম) সঙ্গে আপোস করে যে মারাত্মক ভুলটা করেছি তার খেসারত দিচ্ছি আজ। এখনও যদি তাদের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর না হই, এদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা থাকবে না, এদেশটি তালেবান দেশ হয়ে যাবে, পাকিস্তান হয়ে যাবে।’

 

ভাস্কর্য সেখান থেকে সরিয়ে নেয়া মানে পরাজয় বলেও মনে করেন এই বিচারপতি। তিনি বলেন, ‘এখন প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা মুক্তিযুদ্ধের শক্তি কি পরাজয় বরণ করব ওদের কাছে? যদি পরাজয় বরণ করি আমাদের পরাজিত থাকতে হবে। সেটি তখন তালেবানি রাষ্ট্র হয়ে যাবে, আওয়ামী লীগের সরকার আর মুক্তিযুদ্ধের সরকার থাকবে না।’

 

ভাস্কর্য ইস্যুতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে দাবি করে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান ফয়েজী বলেন, ‘সম্প্রতি আমাদের একটা আলোচনা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ধোলাইপাড়ে ভাস্কর্য স্থাপন করা হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *