নজর২৪ ডেস্ক- শেরপুরে যারা হেফাজতে ইসলাম করবে, তারা মসজিদের ইমামতি করতে পারবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক।
শেরপুর সদর উপজেলা পরিষদ মাঠে শুক্রবার (০৯ এপ্রিল) বিকেল চারটার দিকে কৃষকের মধ্যে কম্বাইন হারভেস্টার বিরতণকালে তিনি এ কথা বলেন।
আতিউর রহমান আতিক বলেন, ‘দেশে ইসলামের নামে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ বিশৃ’ঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তারা নারী নিয়ে রিসোর্টে ফু’র্তি করে। এটা আর হতে দেয়া যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘শুধু শেরপুর নয়, সারা দেশেই এ ব্যবস্থা করবে সরকার।
পরে চলতি মৌসুমে আউশ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ হাজার ২৫০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন তিনি।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফিরোজ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক এ এম মোবারক আলী, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবাইয়া ইয়াসমিন, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ইসরাত জাহান সুইটি।
আরও পড়ুন-
হেফাজতকে ‘জঙ্গি সংগঠন’ ঘোষণার দাবিতে মার্কিন মন্ত্রীকে স্মারকলিপি
প্রবাসের কথা ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্তনি ব্লিনকেনকে স্মারকলিপি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রস্থ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারক বিভিন্ন সংগঠন।
গত ৭ এপ্রিল ই-মেইলে প্রেরিত এই স্মারকলিপির কপি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট, কংগ্রেসের উভয়কক্ষের পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির কাছেও প্রেরণ করা হয়।
সংগঠনগুলো হলো- একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নিউইয়র্ক শাখা, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু পরিষদ, ইউএসএ কমিটি ফর সেকুলার অ্যান্ড ডেমোক্রেটিক বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন যুক্তরাষ্ট্র শাখা, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার ভেটারেনস যুক্তরাষ্ট্র।
ছয়টি সংগঠনের পক্ষে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও বিশিষ্ট বিজ্ঞানী বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. নুরুন নবী এ স্মারকলিপি দেন।
শুক্রবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতারা যদিও এই সংগঠনকে একটি ধর্মীয় সংগঠন দাবি করে, কিন্তু তাদের সব কর্মকাণ্ড জঙ্গি সংগঠন তালেবান ও আইসিসের মতো। হেফাজতে ইসলাম ধর্মের নাম করে তাদের জঙ্গি কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করার চেষ্টা চালিয়ে আসছে।
স্মারকলিপিতে হেফাজতে ইসলাম দেশব্যাপী নারী বিরোধী, সংখ্যালঘুবিরোধী ও স্বাধীনতাবিরোধী সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে বাংলাদেশকে একটি ইসলামিক রাষ্ট্র বানানোর গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে সম্প্রতি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে দেশব্যাপী বিশেষ করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এবং তারও কিছুদিন আগে সুনামগঞ্জের শাল্লায় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার বিস্তারিত এই স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সংগঠনগুলোর পক্ষে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এন্টোনি ব্লিঙ্কেনের কাছে জানানো হয়, হেফাজতে ইসলাম মৌলবাদী সংগঠনটিকে যদি জঙ্গি সংগঠন ঘোষণা দিয়ে দ্রুত নিষিদ্ধ করার চেষ্টা না করা হয়, তাহলে এই সংগঠনটি ধর্মের আড়ালে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বরং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও বিপদজনক হয়ে উঠবে।
