নজর২৪ ডেস্ক- রাজধানীর ধোলাইপাড় মোড়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আপাতত হচ্ছে না। সব নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২ এপ্রিল) গভীর রাতে এসব সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর হচ্ছে না বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। খবর- সারাবাংলার
এ বিষয়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সবুজ উদ্দিন খান বলেন, নির্মাণাধীন স্থান থেকে নির্মাণ সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আপাতত কাজ বন্ধ আছে। পুনরায় অনুমতি পেলে আবার কাজ শুরু হবে।
শনিবার (৩ এপ্রিল) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ধোলাইপাড় মোড়ে যে স্থানটিতে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নির্মাণের কথা ছিল, সেখানে ইট-কাঠ, বালু, সিমেন্ট, রড, টিন, বেষ্টনী ত্রিপল— কোনো কিছুই নেই। কেবল ভাস্কর্যের বেদীটা সেখানে রয়ে গেছে।
ধোলাইপাড় মোড়ের পূর্ব পাশে অবস্থিত দোলা ও আনন্দ পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার মো. কাউসার হোসেন বলেন, ‘শুনছি বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আর এখানে হবে না। গতকাল (শুক্রবার) গভীর রাতে পুলিশের বড় বড় ট্রাক এসেছিল। র্যাবের গাড়ি এসেছিল। অনেক পুলিশ সদস্য সেখানে ছিলেন। তখন চারদিক দিযে ঘেরা ত্রিপল নিয়ে যান। আজ শুনলাম বেষ্টনীর টিনও নিয়ে যাওয়া হবে। এখানে আর কোনো ভাস্কর্য হবে না।’
‘ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের একাধিক কর্মকর্তা ও ভাস্কর্য নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্তদের সঙ্গে কথা বলে আমি এসব জেনেছি,’— বলেন মো. কাউসার হোসেন।
ধোলাইপাড় মোড়ের পশ্চিম পাশে ফার্মেসি সহকারী আজাদ হোসেন বলেন, ‘সরকার বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য বসানোর উদ্যোগ নেওয়ায় এখানকার লোকজন খুবই খুশি হয়েছিল। এটা হলে সবাই বলত, ধোলাইপাড়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য রয়েছে। সবার পরিচয়ের জায়গা হয়ে উঠত এই ধোলাইপাড়। কিন্তু হেফাজতের বিরোধিতার ফলে এটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।’
‘ভাবছিলাম সরকার এটি তৈরি করেই ছাড়বে। কিন্তু না, শেষ পর্যন্ত গতকাল সবকিছু সরিয়ে ফেলেছে কর্তৃপক্ষ। এখন বেষ্টনীর টিন বাকি আছে। সেগুলোও নাকি সরিয়ে ফেলা হবে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য আর এখানে বসছে না।’
