নজর২৪, ঢাকা- ওয়াজ-মাহফিল থেকে আয় কতো? তা জানতে চেয়েছেন ধর্মভিত্তিক সংগঠন ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী। এজন্য একজন বিচারপতির নেতৃত্বে ৫ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি করারও দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, ওয়াজের নামে হেলিকপ্টার সওয়ারীদের আয় কত সেটি খুঁজে বের করতে হবে। একই সঙ্গে তাদের বক্তব্য, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের অপতৎপরতার তদন্ত, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও হাটহাজারী হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনাসহ সার্বিক ঘটনাবলী তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে দ্রুত জনসম্মুখে প্রকৃত কাহিনি প্রকাশ করতে হবে।
শনিবার (৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অন্যান্য নেতারা।
ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, গত ২৩ থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে জামায়াত-শিবির এবং কওমি অঙ্গনের কিছু উগ্রপন্থি তথাকথিত ওলামাদের নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নজিরবিহীন তাণ্ডব চালানো হয়। এতে থানা, প্রেসক্লাব, ভূমি অফিস, ওস্তাদ আলাউদ্দিনের স্মৃতি ভাঙচুর, রেলস্টেশন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বাড়িতে আগুনসহ ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে নানা উস্কানি দিয়ে মানুষ হত্যা করা হয়।
তিনি বলেন, দেশের কওমি মাদ্রাসাগুলোতে কখনো উগ্র মতাবলম্বী ছিল না। বর্তমানে হেফাজতে ইসলামের নেতারা জামায়াতে ইসলামীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে মাঠে নেমেছেন। গ্রামে গ্রামে হিংসা বিদ্বেষ ছড়িয়ে দিচ্ছেন। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের সরকারি আয়োজন বানচাল করে দেওয়া ছিল এ উগ্রবাদীদের আসল উদ্দেশ্যে। তাদের লক্ষ্য দেশে নৈরাজ্যের সৃষ্টি করে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে উগ্রবাদী আখ্যা দিয়ে তার বিরোধিতায় হেফাজতের অবস্থান প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধৈর্য ও সহিষ্ণুতার ধর্ম। যদি উগ্রবাদী কেউ থাকে তবে উগ্রবাদের বিপরীতে ইসলাম বলেছে তোমাকে ধৈর্য ধরতে হবে।
‘মোদি যদি উগ্রবাদী হয়ে থাকে তবে তাকে অনুসরণ করে আমরাও উগ্রবাদী হয়ে তাণ্ডব চালাতে পারি না। আমরা যে তাণ্ডব চালালাম তাতে মোদির কি কোনো ক্ষতি হয়েছে? ক্ষতি আমাদের হয়েছে। আমরা নিজেদের সম্পদ নষ্ট করেছি। আমরা আমাদের রেল স্টেশন, আমাদের ভুমি অফিস, আমাদের পুলিশ স্টেশনে হামলা করে কি মোদির উগ্রবাদীর জবাব দিলাম?’
তিনি বলেন, ‘মোদি যদি আমাদের ক্ষতি করতে চান, তবে আমরা যা করেছি তা করেই আমরা নিজেদের ক্ষতি করেছি।’
মিছবাহুর রহমান চৌধুরী বলেন, ‘কোরআন কারও নিজের সম্পত্তি না। আমরা আজকাল ফেসবুকে দেখি অনেকেই কুরআন নিজেদের বলে দাবি করে বিভিন্ন ফতেয়া দেন। তারা বলেন, তারা নাকি জান্নাতে পাঠাবেন, দোজখে পাঠাবেন, জানাজায় অংশ নেবেন না। এটা কখনও ইসলাম বলে না।’
বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্য নিয়ে যারা কাজ করছে আগামী ৫ জুন সংবাদ সম্মেলনে তাদরে নাম প্রকাশ করবেন।
