হেফাজতের আন্দোলন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত: শাহ আহমেদ শফীর ছেলে

নজর২৪ ডেস্ক- ধর্মভিক্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের ‘তাণ্ডবের আন্দোলনকে’ লক্ষ্যহীন ও ভুল হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানী। তবে এ আন্দোলন ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলেও মনে করেন তিনি। সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের ভুল আন্দোলনের খেসারত হিসেবেই নিরীহ ছাত্রদের প্রাণ গেছে বলেও মনে করেন আনাস মাদানী। আলাপচারিতায় মাওলানা আহমদ শফীর হেফাজতে ইসলামকে ‘প্রকৃত সংগঠন’ হিসেবে উল্লেখ করে তার অনুসারীদের নিয়ে সংগঠনটিকে নতুন করে গোছানোর কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন এই হেফাজত নেতা।

 

আহমদ শফীর নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলামের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদের পাশাপাশি হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষাবিষয়ক সহকারী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন আনাস মাদানী। সংগঠনটির অন্যতম প্রভাবশালী এই নেতাকে হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও হেফাজতের একাংশের বিরোধিতার ফলে মাদ্রাসা থেকে বরখাস্ত করা হয়। বর্তমানে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার সরফভাটা মেহেরীয়া মাদ্রাসার দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি।

 

কওমি মাদ্রাসা ও হেফাজতের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে দাবি করে মাওলানা আনাস মাদানী বলেন, ‘হেফাজতের নামে যে আন্দোলন করা হয়েছে, সেটি ছিল লক্ষ্যহীন। ছাত্রদের ভুল বুঝিয়ে, রাস্তায় নামিয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এতে অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। নেতারা এর দায় এড়াতে পারেন না। হেফাজতে ইসলামের বর্তমান নেতৃত্ব কেন এই কাজ করল- তা আমরাও বুঝতে পারছি না। আর পুলিশও চাইলে একটু নমনীয় হতে পারত। গুলি না চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারত। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াও তাদের হাতে অন্য অস্ত্র ছিল।’

 

তিনি বলেন, ‘আমাদের বুঝতে হবে, নরেন্দ্র মোদি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান নয়; বরং একটি দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এতে দেশের নাগরিক হিসেবে আমাদের সুযোগ দেখা দিয়েছিল সরকারপ্রধানের মাধ্যমে কোনো দাবি থাকলে তা তুলে ধরার। বিশেষ করে, ভারতে মুসলিম ও সীমান্তে বিভিন্ন হত্যা বন্ধসহ অন্যান্য দাবি তুলে ধরা যেত। কিন্তু তা না করে নিরীহ ছাত্রদের রাজপথে, সংঘাতে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা কতটুকু যুক্তিযুক্ত- সেটা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

 

আনাস মাদানী বলেন, ভবিষ্যতে কিছু করতে গেলে এসব বিষয় ভাবতে হবে এবং ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’ প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে যারা হেফাজতে আছেন, হেফাজতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের উৎপাতে সবাই অতিষ্ঠ। ধীরে ধীরে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে শফীপুত্র আনাস বলেন, ‘হেফাজতে ইসলাম একটি অরাজনৈতিক সংগঠন। কিন্তু এখন যারা হেফাজতের দায়িত্বে আছেন, তারা সেই জায়গা থেকে সরে এসেছেন। তারা এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছেন। একসময় আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেই অনেক দাবি আদায় করেছি।

 

আলোচনার মাধ্যমে হাইকোর্ট থেকে মূর্তি সরিয়েছি, পাঠ্যবইয়ে ইসলামের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো পরিবর্তন করা হয়েছে, নারী নীতিতে বিরোধপূর্ণ ধারায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এভাবে আরও অনেক বিষয়ে সফলতা এসেছে। এবারও সেটা করা যেত। কিন্তু করা হয়নি।’

 

মাওলানা আনাস বলেন, ‘শাহ আহমদ শফীর হেফাজতে ইসলাম ও বর্তমান হেফাজতে ইসলাম যে এক নয়, সেটা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। হেফাজতে যারা আছেন, তাদের অনেকেও এখন বুঝতে পারছেন। তারা এক ধরনের মোহে পড়ে চলে গেছেন। কিন্তু কোথায় গেছেন, সেটা এখন বুঝতে পারছেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *