ভোল পাল্টালেন নারায়ণগঞ্জের সেই হেফাজত নেতা

নজর২৪ ডেস্ক- হরতালে তাণ্ডবের কারণে ক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দেয়া হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও নারায়ণগঞ্জ শাখার আমির আবদুল আউয়াল সংগঠনে ফিরে এসেই ভোল পাল্টালেন।

 

রোববার হরতালে তাদের ওপর আক্রমণের অভিযোগ এনে নারায়ণগঞ্জে করা বিক্ষোভে এই ধর্মীয় নেতা বলেছেন, নারায়ণগঞ্জে গাড়ি পোড়ানোর জন্য ‘মনখুশি’ মতো কাউকে শাস্তি দিলে আন্দোলন হবে।

 

শুক্রবার জুমার নামাজের পর নগরীর ডিআইট মসজিদের সামনে বিক্ষোভ করে হেফাজত। এতে প্রধান বক্তা ছিলেন আবদুল আউয়াল যিনি রোববারের হরতালে তাণ্ডবের পর সংগঠন থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

 

এই ঘোষণা ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করলে বুধবার নারায়ণগঞ্জ সফরে গিয়ে তার সঙ্গে বৈঠক করেন হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক। এক ঘণ্টার বৈঠকের পর মামুনুল বলেন, আবদুল আউয়াল আবার নারায়ণগঞ্জে হেফাজতকে নেতৃত্ব দেবেন।

 

রোববার হরতালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বেপরোয়া গাড়ি ভাঙচুর ও আগুনের বিষয়ে আবদুল আউয়াল বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জে কারা গাড়ি পুড়িয়েছে, কারা গাড়ি ভাঙছে, আমরা সব ভিডিও ফুটেজে দেখেছি। আপনারা মন খুশিমতো হেফাজতের কোনো কর্মীকে আইনের আওতায় এনে যদি শাস্তি দেন তাহলে কঠোর আন্দোলন হবে। আমি দাবি জানাচ্ছি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

 

‘আপনারা বার বার করে তাদের দেখে নেন, কারা হরতালে উচ্ছৃঙ্খলতা করেছে। তাদের সঠিক ভাবে নির্ণয় করে বিচারের আওতায় আনেন।’

 

নারায়ণগঞ্জ জেলা হেফাজতের আমির ও কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির আবদুল আউয়ালের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জেলার সেক্রেটারি মুফতি বশিরউল্লাহ, সহসভাপতি দ্বীন ইসলাম, মহানগরের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান, সেক্রেটারি হারুন অর রশিদ, মহানগর ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মাসুম বিল্লাহ।

 

শুক্রবার দুপুরে শহরের ডিআইটি কেন্দ্রীয় রেলওয়ে জামে মসজিদের সামনে সরেজমিনে দেখা যায়, সারাদেশে হেফাজতের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলা ও হরতালে বিশৃঙ্খলায় নিহত, গ্রেপ্তার ও মামলার প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলাম নারায়ণগঞ্জ জেলা সমাবেশের আয়োজন করে।

 

তবে, সেখানে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জীবাণুনাশক স্প্রে, হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হাত ধোয়ার কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। এমনকি অনেকের মুখে ছিল না মাস্ক। কোনো ধরণের সামাজিক দূরত্ব ছাড়াই আড়াইটা থেকে এ সমাবেশ শুরু হয়। এসময় সমাবেশের আয়োজক হেফাজতে ইসলামের নেতাদের মুখেও মাস্ক দেখা যায়নি।

 

নারায়ণগঞ্জ মহানগর হেফাজতে ইসলামের সভাপতি ফেরদাউসুর রহমান বলেন, ‘এটা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি ছিল। ছোট পরিসরে আয়োজন করা হয়। কোনো মঞ্চও করা হয়নি। স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করা হয়েছে।’

 

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির আশঙ্কার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মসজিদ-মাদ্রাসাগুলো খোলা ছিল, কিন্তু, কারো করোনা হয়নি। আশা করছি ভবিষ্যতেও করোনা হবে না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *