নজর২৪, ঢাকা- বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকারের নেতা, মন্ত্রী, অনেক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়েছে ‘হেফাজতকে বিএনপি ইন্ধন দিয়েছে। কর্মসূচি পালনে সমর্থন দিয়েছে।’ কিন্তু হেফাজতের সঙ্গে আমাদের কোনও সম্পর্ক নেই।
মঙ্গলবার (৩০ মার্চ) বিকাল ৪টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সারা দেশে বিএনপির কর্মসূচিতে নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হেফাজতের এই কর্মসূচিগুলোর সঙ্গে বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার যে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তার প্রতিবাদ আমরা করেছি। সভা-সমাবেশ করা বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার।’
সরকার সাম্প্রদায়িক শক্তিকে মদত দিচ্ছে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, ‘সরকার একটা প্রচারণা চালাচ্ছে যে, আমরা হেফাজতকে সমর্থন দিয়েছি। আমরা মৌলবাদকে সমর্থন দিয়েছি। আমরা সাম্প্রদায়িক একটা সমস্যা তৈরি করার চেষ্টা করছি। পেছন দিক থেকে নাকি আমরা মদত দিচ্ছি, উস্কানি দিচ্ছি।’
‘আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বিএনপি নয়, উস্কানি তো দিয়েছে সরকার। প্রথম থেকে উস্কানি দিয়ে আজকে এই অবস্থার সৃষ্টি করেছে তারা।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করে দেখবেন যে, প্রথম যে মিছিল হেফাজতের ছিল বায়তুল মোকাররমে। তারা একটা সাধারণভাবে প্রতিবাদ মিছিল করতে চেয়েছিল। সেই প্রতিবাদ মিছিলের ওপরে উত্তর দিক থেকে পুলিশ আক্রমণ করেছে। দক্ষিণের গেইট দিয়ে যখন পালাতে গেছে তখন আওয়ামী লীগের সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করেছে এবং সেখানে বহু লোককে হতাহত করেছে। ঠিক একই ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে। তারা সেখানে মিছিল করতে গেলে সেখান গুলি করেছে, সেই গুলিতে মারা গেছে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ বাংলাদেশের ইতিহাসে একটা কলঙ্কজনক অধ্যায় সংগঠিত হয়েছে। স্বাধীনতার ৫০ বছর যখন সমগ্র জাতি পালন করছে তখন পুলিশ এবং আওয়ামী লীগের পেটুয়া বাহিনীর গুলি ও আক্রমণে ঢাকা, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে সাধারণ মানুষের রক্ত ঝরেছে।’
হেফাজত কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল, ‘সরকার যেহেতু এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সেই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ আমরা করছি। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে যে, যেকোনো দল বা সংগঠন তাদের মতপ্রকাশের জন্য সমাবেশ করতে পারে, মিছিল করতে পারে। এইখানে যে আঘাতটা এসেছে আমরা তার প্রতিবাদ করছি-এটা আমাদের বুঝতে হবে।’
তিনি সোমবার ও মঙ্গলবার বিএনপির কেন্দ্র ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও আওয়ামী লীগের হামলা, পুলিশের গুলিবর্ষণ, নেতাকর্মীদের আহত ও গ্রেফতার করার ঘটনায় তীব্র নিন্দা এবং প্রতিবাদ জানিয়ে গ্রেফতারদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেন।
