সড়ক রক্ষায় ছেলের বিরুদ্ধে এসিল্যান্ডের কাছে মায়ের অভিযোগ

অন্তু দাস হৃদয়, স্টাফ রিপোটার: টাঙ্গাইলের বাসাইলে সরকারি সড়ক ঘেঁষে মেহেদী মাসুদ নামের এক ব্যক্তি ভেকু দিয়ে অভৈধভাবে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে। সরকারি সড়ক ভেঙে যাওয়ার শঙ্কায় মাটি কাটা বন্ধে তার মা মনোয়ারা বেগম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন।

 

তার আবেদনের ১৫টি দিন গেলেও এখনও কোন ব্যবস্থা নেয়নি প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে জেলার বাসাইল উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের যৌতুকী গ্রামে।

 

লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার যৌতুকী গ্রামের বালু ব্যবসায়ী মেহেদী মাসুদ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে ড্রেজার ও ভেকু মেশিনের মাধ্যমে মাটি কেটে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছে। এতে যেমন কৃষি জমি নষ্ট হচ্ছে অপরদিকে সরকারি সড়কও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলার সাহসও পাচ্ছে না। সম্প্রতি কাঞ্চনপুরের কালাচানপাড়া-বারকাটি সড়কের যৌতুকী এলাকায় সড়ক ঘেঁসে ভেকু দিয়ে মেহেদী মাসুদ তার নিজস্ব জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে।

 

প্রায় ২০ ফুট গর্ত করে দু’পাশ থেকে মাটি কাটায় হুমকিতে পড়েছে সড়কটি। এমতাবস্থায় মনোয়ারা বেগম সড়ক ভেঙে যাওয়ায় শঙ্কায় তার ছেলে মাসুদকে মাটি কাটতে বাধা দেয়। মাসুদ তার মায়ের কথা না শুনে গালিগালাজ করে।

 

এরপর মাসুদের মা মনোয়ারা বেগম মাটি কাটা বন্ধে গত ১০ মার্চ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবার লিখিত আবেদন করেন। এই আবেদনের পরও রহস্যজনক কারণে মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। দেদারসেই চলছে ওই মাটি কাটা। বিষয়টি নিয়ে মা মনোয়ারা বেগম ও স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমাদের জমি ঘেঁসেই সরকারি সড়ক রয়েছে। এই সড়ক দিয়ে প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষ চলাচল করে। আমার বড় ছেলে মাসুদ ওই সড়ক ঘেঁষে দু’পাশে প্রায় ২০ ফুট গর্ত করে মাটি কেটে বিক্রি করে আসছে।

 

এভাবে মাটি কাটলে বর্ষায় সড়কটি ভেঙে যেতে পারে। প্রথমে আমি মাসুদকে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু মাসুদ সেটি শুনেনি। এজন্য প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি। তারপরও মাটি কাটা বন্ধ হচ্ছে না। এখনও মাটি কাটা চলছেই।’ তিনি সরকারি সড়ক রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

অভিযুক্ত মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘আমার জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে সড়ক ঘেঁসে এটা ঠিক। আমার দুই ভাইয়ের পক্ষ নিয়ে মা আবেদন করেছেন।’

 

এ বিষয়ে বাসাইল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিয়ান নুরেন বলেন, ঘটনাস্থলে তহশিলদারকে পাঠিয়ে মাটি কাটা বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আমাদের অগোচরে আবার চালু করে। এখন তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *