‘হরতালের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের’ গণধোলাই দেওয়ার নির্দেশ জয়ের

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের ডাকা হরতালকে কেন্দ্র করে আগামীকাল কেউ নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়।

 

তিনি বলেছেন, ‘আপনারা প্রতিটি ইউনিট (ছাত্রলীগ) যার যার এলাকায় থাকবেন। যেখানেই নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা হবে সেখানেই আপনারা তাদের গণধোলাই দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেবেন।’

 

শনিবার (২৭ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সমাবেশে এসব কথা বলেন নাহিয়ান খান জয়। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে ‘স্বাধীনতাবিরােধী অপশক্তি’ কর্তৃক দেশব্যাপী নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

 

জয় বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। ইসলামকে পুঁজি করে যদি কেউ অপরাজনীতি বা বিশৃঙ্খলা করতে চায় তাহলে আমরা ছাত্রলীগ তাদের কোনোভাবে ছাড় দিব না।’

 

ছাত্রলীগ সভাপতি বলেন, ‘পাকিস্তানিদের নিশ্চিহ্ন করতে ৭১ সালে আমরা অস্ত্র হাতে তুলে নিয়েছিলাম৷ আবার যদি সে সময় আসে পাকিস্তানি প্রেতাত্মাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি ৷ ছাত্রলীগ কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পায় না।’

 

তিনি বলেন, ‘গত কয়েকদিন পুলিশের ওপর যেভাবে হামলা হয়েছে, আমরা বুঝে গেছি জামাত-শিবির মাঠে নেমেছে৷ শিবিরকে উদ্দেশ করে বলছি, তোদের চক্ষু লজ্জা নেই। তোরা নামসর্বস্ব সংগঠনে পরিণত হয়েছিস। তোরা যদি বাংলাদেশে অরাজকতা সৃষ্টি করতে চাস, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ একমাত্র সংগঠন তোদের প্রতিহত করতে পারবে৷ তোদেরকে প্রতিহত করতে আমরা ছাত্রলীগই যথেষ্ট।’

 

মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘ধর্মকে পুঁজি করে যারা ব্যবসা করছে তাদের কথা শুনবেন না। ধর্মকে শান্তির জায়গায় রেখে আপনারা এগিয়ে যান। আমরা আপনাদের পাশে থাকব৷ কিন্তু বিশৃঙ্খলাকারীদের নিয়ে আপনারা এগিয়ে যাবেন না। আমরা কথা দিচ্ছি, আপনাদের পাশে আমরা আছি।’

 

আরও পড়ুন-

গণধোলাইয়ের মাধ্যমে হরতাল প্রতিরোধের আহ্বান যুবলীগের

 

নজর২৪, ঢাকা- বিএনপি-জামায়াতসহ সাম্প্রদায়িক শক্তি দেশের কোথাও হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে গণধোলাই দিয়ে তাদের প্রতিহত করার ডাক দিয়েছেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন নিখিল।

 

তিনি বলেন, রোববার বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের প্রতিটি মহানগর, জেলা, উপজেলা, পৌর ও ইউনিয়ন কমিটির নেতারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করবেন। হরতালে তারা কোনো বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করলে রাজপথে তাদের শক্ত হাতে প্রতিহত করা হবে। বিএনপি-জামায়াতের লোকজন হরতালের নামে বিশৃঙ্খলা করলে তাদের যেখানে পাবেন, সেখানেই গণধোলাইয়ের মাধ্যমে প্রতিহত করতে হবে।

 

শনিবার (২৭ মার্চ) ফার্মগেট আনন্দ সিনেমা হলের সামনে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের এক প্রতিবাদ সমাবেশে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় দেশব্যাপী স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির ধ্বংসাত্মক তাণ্ডবের প্রতিবাদে যুবলীগ চেয়ারম্যান ও সাধারণ সম্পাদকের নির্দেশে এই বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে যুবলীগ।

 

একাত্তরে পরাজিত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির মাধ্যমে জঙ্গি পরিবেশ কায়েম করতে চায় বলে সমাবেশে অভিযোগ করেন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের সময় স্বাধীনতার পরাজিত শক্তি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তারা জঙ্গি পরিবেশ কায়েম করতে চায়। হেফাজত ইসলামসহ যেসব রাজনৈতিক দল সমাবেশ করে উসকানি দিচ্ছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে।

 

নিখিল আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে কোনো সাম্প্রদায়িক শক্তির জায়গা হবে না। স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে, তখন সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আবার দেশের মধ্যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার পাঁয়তারা শুরু করেছে। এদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া যাবে না।

 

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ উত্তরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেন বাবুল, সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।

 

সভায় বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম, রফিকুল আলম জোয়ার্দার, সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল পারভেজ, প্রচার সম্পাদক জয়দেব নন্দী, তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. শামসুল আলম অনিকসহ ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের নেতারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *