নজর২৪, ঢাকা- বায়তুল মোকাররম, চট্টগ্রাম, ব্রাহ্মণবাড়ীয়া মোদি বিরোধীদের সঙ্গে পুলিশি সংঘর্ষে নিহতের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের ডাকা আগামীকাল রোববারের সকাল-সন্ধ্যা হরতালে সমর্থন জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ যে হরতাল ডাকা হয়েছে তাদের বাধা দেবেন না, এটা আহ্বান করা আমাদের মৌলিক অধিকার। আমি মনে করি, আমাদের সবারই উচিত সেই হরতালকে সমর্থন করা।’
শনিবার (২৭ মার্চ) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘ভাসানী অনুসারী পরিষদ’ আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের প্রতিবাদে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর দিনে সারাদেশে বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে হতাহতের প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্যে করে ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আপনারা যাদের ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করতে চেয়েছেন সেই হেফাজতও আজ প্রতিবাদ করছে। আপনার পার্টির লোকেরাও আপনার সামনে এসে কথা বলতে ভয় পায়, তবুও তারা প্রতিবাদ করেছে। কিভাবে? আপনার মহান পিতার জন্মদিবস। সেদিন আওয়ামী লীগের প্ররোচনায় শাল্লাতে সংখালঘুদের বাড়ি-ঘরে হামলা হয়েছে। তারা সংখালঘুদের ওপর অত্যাচার করেনি, তারা আপনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে যে, মোদিকে আমন্ত্রণ একটি ভুল কাজ।
পুলিশকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ একটা সমাবেশ। পুলিশ ভাইদের কাজ হলো শান্তি রক্ষা করা। এখানে কোনো উশৃঙ্খল জনতা নেই। আপনারা আইনশৃঙ্খলার জন্য চুপচাপ দাঁড়ায় থাকেন। আপনারা এখান থেকে কাউকে ধরে নিয়ে যাবেন না। প্রতিবাদ করা আমাদের মৌলিক অধিকার।
শুক্রবার (২৬ মার্চ) জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথির বক্তৃতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে সত্যাগ্রহ করে জেলে গিয়েছিলাম’।
তার এ বক্তব্য প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, মোদি সাহেব বলেছেন ‘১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি জেলে গিয়েছিলেন’। তিনি কোন জেলে ছিলেন? উনি (মোদি) কি তখন পাকিস্তানের পক্ষে ছিলেন? কোনো ভারতীয় নেতা তো ৭১ সনে জেলে যাননি। উনি ৫০ বছর পর আজকে এ কথা আবিষ্কার করছেন।
তিনি বলেন, মোদি বলতে এসেছেন এখানে (বাংলাদেশ) জঙ্গি আছে। আমাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অধিকার তাকে কে দিয়েছে? সুতরাং এসব বিষয় থেকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) সরে আসেন।
উল্লেখ্য, জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ভাসানী অনুসারী পরিষদের এই প্রতিবাদ সমাবেশ শেষ হওয়ার আগেই পুলিশ প্রতিবাদ সমাবেশের দুইদিকে দিয়ে অবস্থান নেয়। এনিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে সমাবেশ শেষ হওয়ার পর নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবের গেইটের কাছে আসলেই ৪/৫ জনকে করে পুলিশ।
