নজর২৪ ডেস্ক- ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের বিরোধিতাকারী ধর্মভিত্তিক দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বায়তুল মোকাররম এলাকায় সরকার সমর্থকদের সংঘর্ষের মধ্যে একজন অস্ত্রধারীর গুলি ছোড়ার ছবি পাওয়া গেছে।
তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আর পুলিশ বলছে, তারা অস্ত্রধারী কাউকে দেখেনি। খবর- নিউজ বাংলার
দুপুর পৌনে দুইটার দিকে সংঘর্ষ শুরু হয় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে। তবে পরে তা ছড়িয়ে পড়ে দক্ষিণ গেটে। বিকেল তিনটার পরে দক্ষিণ গেট দিয়ে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে মসজিদের দিকে এগিয়ে যেতে দেখা যায়। মসজিদের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় অন্তত পাঁচবার ফাঁকাগুলি ছোড়ে সেই অস্ত্রধারী যুবক।
অস্ত্র হাতে তার অ্যাকশনের তিনটি ছবি ধরা পড়েছে নিউজবাংলার ক্যামেরা। আকাশি রঙের পাঞ্জাবি আর শুভ্র পাজামা ছিল পরনে। মাথায় কালো হেলমেট। ধারণা করা হচ্ছে, নিজের চেহারা আড়াল করতেই এই কৌশল বেছে নিয়েছেন অস্ত্রধারী যুবকটি।

একটি ছবিতে দেখা যায়, দুই হাতে অস্ত্র ধরে সামনের দিকে তাক করে গুলি ছুড়ছেন ওই যুবক। অপর দুটি ছবিতে বেশ আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিতে ডান হাতে অস্ত্র নিয়ে সামনের দিকে ছুটছেন তিনি।
তবে চেষ্টা করেও তার পরিচয় জানা যায়নি। দিন-দুপুরে অস্ত্র হাতে ফাঁকা গুলি ছোড়া এই যুবক কোন পক্ষের সমর্থক সেটা বুঝে ওঠাও ছিল মুশকিল।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বায়তুল মোকাররমের ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ছাড়া, আর কারও কাছে কোনো প্রকার আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না।’

পুলিশের এমন ভাষ্যে প্রমাণ হয়, অস্ত্রধারী যুবকটি সাদা পোশাকে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর কোনো সদস্য নয়। তাহলে প্রশ্ন আসছে তিনি কে?
অস্ত্রধারীর ছবি ধারণের বিষয়টি মতিঝিল বিভাগের উপ কমিশনার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘আমার জানামতে বাইরের কারও কাছে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না।’
অস্ত্রধারী যুবকের ছবি সরবরাহের অনুরোধ জানিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখব।’
উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে ধর্মভিত্তিক কয়েকটি দলের নেতা-কর্মীদের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম এলাকায় আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৭২ জন আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
