মসজিদে বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়ার পরই চাকরি গেল ইমামের

নজর২৪, বগুড়া- জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়ার আয়োজন করে চাকরি থেকে বাদ পড়েছেন ইমাম।

 

শুক্রবার (১৯ মার্চ) জুমার নামাজের পর উপজেলার তালশন উত্তরপাড়া জামে মসজিদে ঘটনাটি ঘটেছে বলে অভিযোগ করছেন ওই মজিদের ইমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেন।

 

তবে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় বিএনপি নেতা আব্দুস সাত্তার সরকার অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন- অস্থায়ী ইমাম কাগজপত্র না দেওয়ায় তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

ঈমাম মাওলানা সাদ্দাম হোসেনের অভিযোগ, গত দুই মাস ধরে তিনি ওই মসজিদে ইমামতি করছেন। শুক্রবার সকালে ইসলামি ফাউন্ডেশন থেকে তাকে ফোন করে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে জুমার নামাজের পর বিশেষ দোয়া করতে জানানো হয়। সে মোতাবেক তিনি নামাজের পর বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করেন। কিন্তু নামাজ শেষে মুসল্লিরা চলে গেলে তাকে ডেকে ওই মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার নামাজ পড়াতে আসতে নিষেধ করেন। বঙ্গবন্ধুর জন্য দোয়া করায় তাকে বাদ দেওয়া হলো কিনা বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি (সাধারণ সম্পাদক) তার কোনো কথাই শোনেননি।

 

ওই মসজিদের মুসল্লি মোমিন বলেন, হঠাৎ করে ইমাম সাহেবকে বাদ দেওয়াটা ঠিক হয়নি। তিনি কমিটির সিদ্ধান্ত ছাড়াই তাকে (ইমাম) বাদ দিয়ে ভালো করেননি। বিষয়টি জানাজানির পর সাধারণ সম্পাদকের ওপর সবাই মনোক্ষুণ্ণ। ইমামকে বাদ দেওয়ায় অন্য সব মুসল্লিরা বিষয়টির প্রতিবাদ জানান।

 

উপজেলার তালশন উত্তরপাড়া জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও আদমদীঘি সদর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুস সাত্তার সরকার অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, গত দেড় মাস যাবৎ মাওলানা সাদ্দাম হোসেন অস্থায়ীভাবে মসজিদে ইমামতি করে আসছিলেন। তাকে স্থায়ীকরণের জন্য কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন শুক্রবার সেসব নিয়ে আসবেন।

 

জুমার নামাজের পর তার কাগজপত্র দেখতে চাইলে তিনি উল্টো বলেন, কাগজপত্র দিয়ে এ উপজেলায় কে ইমামতি করেন? এরপর তাকে বলেছি কাগজপত্র না হলে যদি মসজিদে ঈমামতি চলে যায় তাহলে আমাদের কিছু করার থাকবে না। বিষয়টি এখন একটি চক্র অন্য খ্যাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন।

 

ওই মসজিদ কমিটির সভাপতি শফি আহম্মেদ মুঠোফোনে বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে চিকিৎসা নিতে ঢাকায় এসেছি। এজন্য বিষয়টি আমার জানা নেই। তাছাড়া বঙ্গবন্ধুর জন্য শুক্রবারে জুমার নামাজের পর আমিও দোয়া করতে ঈমাম সাহেবকে বলে এসেছিলাম। যদি এমন ঘটনায় তাকে (ঈমামকে) বাদ দেওয়া হয় তাহলে সেটি ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি দেখব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *