সূর্যমুখী চাষে স্বাবলম্বী কাউন্সিলর রাশেদ

মো. সানোয়ার হোসেন, মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে সূর্যমুখী ফুল চাষ করা হয়েছে। এতে সফল হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের টানা দুইবারের সাবেক কাউন্সিলর এস.এম রাশেদ।

 

পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় নিজ অর্থায়নে তিনি ২৬ শতাংশ জায়গায় সূর্যমুখী চাষ করেছেন বলে জানা গেছে। কম খরচে লাভজনক এবং ফলন ভালো হওয়ায় উদ্বুদ্ধ হয়ে উপজেলার অগ্রগামী থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরা এ সূর্যমুখী চাষ করছেন।

 

কৃষি অফিস সুত্র জানায়, গেলো বছর মির্জাপুর উপজেলার ৩ হেক্টর জমিতে প্রথম সূর্যমুখী চাষ করা হয় এবং কৃষক তার কাঙ্খিত ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে লাভবান হন। সূর্যমুখী ফুল চাষে লাভজনক হওয়ায় উপজেলার অগ্রগামী ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকরাও এই ফসল আবাদে ঝুকেছেন।

 

তাই এ বছর মির্জাপুর উপজেলার পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ২৬-২৭টি এলাকার ৪০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৩৭ হেক্টর হার বেশি।

 

এদিকে সবুজের মাঝে হলুদের সমারোহে হারিয়ে যেতে বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন সূর্যমুখীর বাগানগুলোতে। সরেজমিনে উপজেলার পৌরসদরের ১নং ওয়ার্ডের পোষ্টকামুরী পূর্বপাড়া গ্রামে আবাদ করা সূর্যমুখীর বাগানে গিয়ে অসংখ্য দর্শনার্থীর ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

 

বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাজহারুল ইসলাম শিপলু ও তার সহধর্মিণী ডা. মিতু আক্তারের সাথে কথা হলে তারা বলেন, এ যেনো এক অপরূপ দৃশ্য। ফুল খুব পছন্দ করি, তাই এ বাগানের কথা শুনতে পেয়ে ছুটে এসেছি। অনেক সুন্দর পরিবেশ, বাগান মালিককে ধন্যবাদ জানাই।

 

ঘুরতে আসা আর এক ডা. আরিফ হোসেনের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বাগানের খবর পেয়ে আমি ও আমার সহকর্মীরা মিলে এসেছি, জায়গাটিতে এসে অনেক ভালো লাগছে। করোনার মধ্যে ঘরবন্দি থাকার পর এখানে এসে মনটা ভরে গেলো। যারা এই সূর্যমুখী চাষ করেছেন তাদের প্রতি তিনি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

 

ছাব্বির, রায়হান খান, আরিয়ান শুভ বন্ধুমহলের সাথে কথা হলে তারা বলেন, মির্জাপুর পৌরসভায় এই প্রথম সূর্যমুখীর চাষ করা হয়েছে। তাই বন্ধুরা মিলে সেলফি তুলতে এসেছেন।

 

এ ব্যাপারে অগ্রগামী কৃষক ও সাবেক কাউন্সিলর এস.এম রাশেদের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, গত বছরের সূর্যমুখী চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে আমি উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শ নেই।

 

পরামর্শানুযায়ী গত নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ২৬ শতাংশ জায়গায় সূর্যমুখীর বীজ বপন করি। তিন মাস অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর এখন গাছে ফুল ফুটেছে। যেটি দেখতে মানুষ দূরদুরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রতিদিন।

 

প্রথম চাষ করায় লাভের ব্যাপারে তেমন আশাবাদি না হলেও তিনি খুব আনন্দিত। মানুষের উৎসাহ, অনুপ্রেরণা পেলে পরবর্তী বছরগুলোতে আরো বড় পরিসরে সূর্যমুখী থেকে শুরু করে অন্যান্য ফল, ফুল আবাদ করার চিন্তা ভাবনাও রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, সূর্যমুখী আমাদের দেশের তেল ফসল। খাবার তৈরি করতে আমরা যে তেল (সয়াবিন/সরিষা) ব্যবহার করি সেই তেলে ইরোসিক এসিড থাকে, যা আমাদের দেহের জন্য ক্ষতিকারক। কিন্তু সূর্যমুখী ফুলের বীজ থেকে যে তেল উৎপাদন হয় সেই তেলে লিনোলিক এসিড রয়েছে যেটি মানুষের হার্টের জন্য খুবই ভালো।

 

এ বছর মির্জাপুর উপজেলায় যে পরিমাণে সূর্যমুখী চাষ হয়েছে আগামীতে এর চেয়ে দ্বিগুন হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সর্বপুরি আমরা আমাদের উপ-সহকারিদের মাধ্যমে আবাদ করা প্রতিটি স্থানে প্রতিনিয়তই তদারকি করে যাচ্ছি।

 

আশা করা যাচ্ছে এখান থেকে কৃষকরা তাদের কাঙ্খিত ফসল উৎপাদন করে অধিক লাভবান হতে পারবেন। এই চাষাবাদের মাধ্যমে মির্জাপুরের ভোক্তারা ভালো মানের ভোজ্য তেল সুলভ মূল্যে পাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *