নাগরপুরে সূর্যমুখী ফুলের চাষে অধিক মুনাফায় আগ্রহী হচ্ছে কৃষক

নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে কাঠুরী উপেন্দ্র সরোবরের পশ্চিম পাশে গ্রামের আদর্শ কৃষক মোঃ শামছুল ইসলাম (মিডিয়া শামছুল) সূর্যমূখী ফুল চাষের এক রঙিন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।

 

নগর থেকে অনেক দূর প্রাণ পূর্ণিমার নাগরপুর, ধলেশ্বরীর পলিমাখা ধান সরিষায় ভরপুর এই ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে ধলেশ্বরী যমুনা বিধঁত পলল সমতল ভূমি নাগরপুরে কৃষকরা মাঠেঘাটে কৃষি কাজ করে যাচ্ছে।

 

কৃষক শামছুলের আবাদি জমিটি উপেন্দ্র সরোবরের পাশে হওয়ায় প্রাচীন ঐতিহ্য দেখার পাশাপাশি এক নজরে অবলোকন করতে আসা মানুষের দৃষ্টি এখন নাগরপুর কাঠুরী এলাকার সূর্যমুখী ফুলের বাগানটিতে।

 

স্থানীয় কৃষক মিডিয়া শামছুলের পরিশ্রমের ফসল সূর্যমুখী ফুলের বাগানে এখন প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত পর্যটকদের উপচে পড়া রীতিমত ভিড় জমে। এই বাগানটি এখন সূর্য মূখী ফুলের স্বর্গরাজ্য, ফুল প্রেমিক যে কারো মন আনন্দে উচ্ছাসিত হয়ে উঠবে সূর্যমুখীর হাসিতে।

 

মনে হবে এ যেনো এক ফুলের স্বর্গরাজ্য, প্রাচীন ঐতিহ্য কেন্দ্রীয় শিব মন্দিরের পাশে গ্রামে সবুজে ঘেরা প্রকৃতির মাঝে মনোরম পরিবেশে শোভা পাচ্ছে হলুদ রঙের সূর্যমুখী ফুলের বাগান। এই ফুলের বাগানটি দূর থেকে যে কোন বয়সী মানুষের মন কেড়ে নিতে পারে।

 

বাংলাদেশের ভৌগলিক পরিচয়ে টাঙ্গাইলের নাগরপুর মধ্যচর হিসাবে বিবেচিত প্রকৃতির এক নৈসর্গিক সৃষ্টি সূর্যমুখী ফুলের বাগানটি। এই কৃষক প্রথমবারের মতো সূর্যমূখী চাষ করেছে। তার দেখাদেখি স্থানীয় আরো অনেক কৃষক ছোট পরিসরে এই সূর্য মূখী চাষ শুরু করেছে।

 

সূর্যমুখী চাষের ফলে অনেকের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, সূর্যমুখী ফুলের বীজ বিক্রি করে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বাণিজ্যিকভাবে অনাবাদী জমিতে সূর্যমুখী চাষের ব্যাপক সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারাও।

 

উপজেলার বিভিন্ন সূর্যমুখী প্রদর্শনী জমিতে গিয়ে দেখা যায়, হলুদ ফুলের সমাহারে একটি নয়নাভিরাম দৃশ্য। আশে পাশের সুন্দর ও বিনোদন পিপাসু মানুষেরা বিকাল বেলায় তাদের স্বজনদের নিয়ে সূর্যমুখী প্রদর্শনীতে ভিড় জমাচ্ছে। দেখতে মনে হয় ফসলী জমি নয়, এক দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান।

 

গত পৌষ মাসের প্রথম দিকে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিস থেকে বীজ সংগ্রহ করে চাষ শুরু করেছেন কৃষকরা। একটি পরিণত সূর্যমুখী ফুলের

গাছ ৯০ দিন থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই কৃষকরা বীজ ঘরে তুলতে পারবেন। যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হয় তবে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ সূর্যমুখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে। ১ মণ বীজ থেকে প্রায় ১৭ কেজি তেল পাওয়া যাবে।

 

সূর্যমূখীর তেল ছাড়াও এ থেকে পাওয়া খৈল দিয়ে মাছের খাবার এবং গাছগুলো জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করা যায়। এর কোনো অংশই ফেলে দেওয়ার মত নয়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দেয়া পরামর্শে প্রথমবারের মতো ১ বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুলের চাষ করেছেন কৃষক শামছুল।

 

কৃষি অফিস থেকে তাকে বিনামূল্যে বীজ, সার ও কিছু নগদ টাকা দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। কৃষক ভাল ফলনের আশাবাদী।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বিশ্বাস জানান, সূর্যমুখী ফুল থেকে কোলেস্টেরল মুক্ত তেল উৎপাদন করে ক্ষতিকর পাম অয়েল ও সয়াবিনের স্বাস্থ্যঝুকিঁ থেকে রক্ষা পাবে। যদি প্রাকৃতিক দূর্যোগে কোন প্রকার ক্ষতি না হয় তাহলে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ৮ থেকে ১০ মণ সূর্যমূখী ফুলের বীজ পাওয়া যাবে।

 

১ মণ বীজ থেকে প্রায় ১৭ কেজি তেল পাওয়া যাবে। সূর্যমুখী চাষের ফলে অনেকের আয় ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। সূর্যমুখীর বীজ উৎপাদন ও ফুলের বীজ বিক্রি করে এবার কৃষকের মুখে হাসি ফুটবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *