বিশ্ববিদ্যালয় খুলে দিলে সরকার পতনের আন্দোলন হতে পারে: জাফরুল্লাহ

নজর২৪, ঢাকা- গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, বিএনপিতে অনেক বড় নেতা থাকলেও তারা বধির ও অন্ধ হয়ে গেছেন। সরকার একের পর এক ভুল করে গেল তারা শুধু দেখেই যাচ্ছেন, কিছুই করতে পারছেন না। বর্তমানে অফিস-আদালত মাদ্রাদরাসা সব খোলা থাকলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখনও বন্ধ। কারণ সরকারের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে রিপোর্ট রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলো খুলে দিলে সরকার পতনের আন্দোলন হতে পারে।

 

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা বেগম জিয়ার মুক্তি চাইছেন, তাও মাজা সোজা হয়ে মুক্তি চাইতে সাহস পান না। খালেদা জিয়া অসুস্থ, তার চিকিৎসার জন্য তাকে বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। অধিকার আদায় করে নিতে হয়। যেমন আজিজ সাহেব তার ভাইয়ের অধিকার আদায় করে নিয়েছেন।

 

তিনি ২০ দলীয় জোটের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা কি করছেন, আপনারা ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না কেন? আপনাদের ঘুম কি ভাঙে না, আপনারা কেন তাদের পাশে দাঁড়াচ্ছে না? ছাত্রদের আন্দোলন চাঙ্গা হলেই জনগণের অধিকার ফিরে আসবে, মুক্তি পাবে খালেদা জিয়া।

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রেখে জাতির মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। অলস শিশুরা হিন্দি ফিল্ম দেখে কিশোর গ্যাং তৈরি করছে। আপনারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য ছাত্রদের পক্ষে অবস্থান নিন।

 

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, গণতন্ত্র গণতন্ত্র বলে কোন লাভ নেই, একটা প্রতিষ্ঠান ঠিকমত চলছে না। হঠাৎ জিয়াউর রহমানের খেতাব কেড়ে নিতে চাচ্ছে সরকার। এর কারণ হলো গতি ঘুরানো। যারা এই হীন কাজে সম্পৃক্ত তারা শুধু জিয়াউর রহমানকেই নয় বঙ্গবন্ধুকে ছোট করছে।

 

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘এই সরকার একের পর এক ভুল করেই যাচ্ছে। এই ভুলের জন্য জাতির কী যে অবস্থা হবে বলা মুশকিল।

 

তিনি বলেন, ছাত্ররা আজ জনগণের কথা বলার লোক। মোস্তফা জামাল হায়দারসহ আপনারা যারা বিএনপি নেতা আছেন তারা ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। আপনারা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের পাশে দাঁড়িয়ে বলতে পারছেন না, এই সপ্তাহেই স্কুল, কলেজ খুলে দিতে হবে?

 

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, সাবেক সংসদ সদস্য আহসান হাবীব লিংকন, নওয়াব আলী আব্বাস খান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *