ঢাকা    ৫ই আগস্ট, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে শ্রাবণ, ১৪২৮ বঙ্গাব্দ



শাহজাদপরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

প্রকাশিত: ১২:২২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২১

শাহজাদপরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ

রাজিব আহমেদ রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত উপজেলাধীর খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক হায়দার আলীর।

 

এঘটনায় সোমবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকের কোচিং সেন্টার চত্বরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা।

 

তবে শিক্ষক প্রভাবশালী হওয়ায় ওই ছাত্রীর দিনমুজুর বাবা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। আর শিক্ষক বলছেন এটা আমার বিরুদ্ধে একটা ষড়যন্ত্র।

 

স্থানীয় এবং শিক্ষার্থীদের সুত্রে জানা যায়, খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের গণিত শিক্ষক হায়দার আলী দীর্ঘ দিন ধরে খুকনী গ্রামের মুকুল মোল্লার বাড়িতে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অবৈধ ভাবে কোচিং ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।

 

সোমবার সকালে একই স্কুলের দশম শ্রেনীর এক ছাত্রীকে সুযোগ বুঝে কোচিংয়ের ক্লাস রুমের পাশেই শিক্ষকের বিশ্রাম কক্ষে ডেকে নেয়। বেশ কিছু সময় গেলেও তারা বের হয়নি।

 

এসময় বাহির থেকে অন্য শিক্ষার্থীরা উকি দিয়ে ভিতরে আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পেয়ে ওই রুমে তালা বদ্ধ করে। পরে ঘরের মালিক সহ স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী তাদের কৌশলে বের করে দেয়।

 

বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসি শিক্ষক হায়দার আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবিতে স্কুল চত্বরে মানববন্ধন করেন।

 

মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার গুরুত্বপূর্ন সড়ক গুলি প্রদক্ষিন করে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফিরোজ হাজির বাড়ির সম্মুখের সড়কে গিয়ে শেষ হয়।

 

এসময় শিক্ষার্থী হাসান মোল্লা, আরমান হোসেন, ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও ইসমাইল হোসেন, রাশেদুল ইসলাম সহ এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন।

 

তারা অভিযোগ করে বলেন, খুকনী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক হাজী হাসমত আলী, কোচিং ঘরের মালিক মুকুল মোল্লা ও স্থানীয় আলম মাল কৌশলে ঘরের ভিতর থেকে ছাত্রী ও লম্পট শিক্ষককে আপত্তিকর অবস্থা থেকে বের করে দেয়। এর আগেও ওই শিক্ষক কয়েকটি ঘটনা ঘটিয়ে ছিলেন। তার বিচার দাবি করছি।

 

এদিকে ঘটনা জানাজানি হলে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছেন এনায়েতপুর থানা পুলিশের একটি দল।

 

এই বিষয়ে সেই ছাত্রীর পরিবারের একজন জানান, আমরা কামলা বেচা মানুষ আমাদের লাঠিও নাই টাকাও নাই। আর কোন বিচারও নাই।

 

এ ব্যাপারে খুকনী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুস ছালাম খান বলেন, অভিযোগ প্রশানিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে শিক্ষক হায়দার আলীর দাবি ঘটনার সময় অনেক শিক্ষার্থী ছিল, এর মধ্যে মেয়েটি ক্লাস রুমে এসে তার একটি অংকের সমস্যার কথা বলেছে। এসময় কিছু দুষ্ট শিক্ষার্থী বাহিরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। এটা আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে খুকনী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাজী ফিরোজ হাসান অনিক বলেন, মেয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের সত্যতা মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।