কুবি প্রতিনিধি: প্রতিষ্ঠার ১৫ বছর পার করলেও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) এলাকায় নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মুখে সড়কে ও সড়কের বিভিন্ন মোড়ে কোনো গতিরোধক না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ড্রাইভাররা। শিক্ষার্থীদের মাঝে দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে সবসময়। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হয় শিক্ষার্থীদের।
কোটবাড়ি থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় ১১ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে নেই কোন গতি রোধক (স্পীড ব্রেকার)। এই রাস্তাটি ক্যাডেট কলেজ, শালবন বিহার, ময়নামতি জাদুঘর, বৌদ্ধ বিহার, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়কে একসাথে যুক্ত করেছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব স্থান ভ্রমণ করে দর্শনার্থীরা।
এই ১১ কিলোমিটার রাস্তা জুড়ে রয়েছে কয়েকটি ঝুঁকিপূর্ণ বাক যেখানে ঘটে যেতে পারে মারাত্মক সড়ক দুর্ঘটনা। কুবি’র পরিবহন ছাড়াও ব্যক্তিগত গাড়ি, অটো রিকসা, সিএনজিসহ বিভিন্ন ছোট বড় যানবাহন এই রাস্তাটি ব্যবহার করছে।
একদল অদক্ষ অটোচালক মেতে উঠেছে যাত্রী আনা নেওয়ার প্রতিযোগিতায়। তাদের এই প্রতিযোগিতা দিন দিন হয়ে উঠছে আরও বেপরোয়া। এর ফলে প্রায়ই শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীদের সড়ক দূর্ঘটনার কবলে পড়ার ঝুঁকিও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক, উপাচার্যের বাসভবন এবং আবাসিক হলগুলোর সামনে কোনও গতিরোধক নেই।
এদিকে এই সড়কে ঘন ঘন মোড় থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের বিপরীতে নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর বিভিন্ন দোকান থাকায় শিক্ষার্থীদের সেখানে আসা-যাওয়া করতে হয়। ফলে যে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
সড়ক নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দাবি কুবি প্রশাসনের কাছে রাখা হলেও বরাবরই নিরব ভূমিকা পালন করেছে প্রশাসন। শুধু চিঠি আদান প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও বিভিন্ন সময় সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়লেও নিরাপদ যাতায়াতের জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী শাহাবুদ্দিন আহমেদ বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সড়কে কোথাও কোনো গতিরোধক না থাকায় যেভাবে খুশি সেভাবেই চলছে গাড়িগুলো। কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।”
এর আগে কুবি শাখা ছাত্রলীগ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতে গতিরোধক নির্মাণ করেছিল। কিন্তু স্থানীয় অটো চালক তাদের চলাচলের সুবিধার্তে রাতের অন্ধকারে তা সরিয়ে নেয়।
এ বিষয়ে কুবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে আমরা কুবি শাখা ছাত্রলীগ নিজেদের উদ্যোগে গতিরোধকগুলো বানিয়েছিলাম। কিন্তু কারা যেন সেগুলো উঠিয়ে ফেলেছে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আবু তাহের বলেন, “এটা সরকারি রাস্তা আমরা একা কোন কিছু করতে পারব না। এর আগেও আমাদের অর্থায়নে গতি রোধকের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আমরা সিটি কর্পোরেশনকে এই বিষয়ে অবহিত করে চিঠি পাঠাবো।”
