খতিয়ান ধরে ঘরে ঘরে ঢুকে বিচার করা হবে: আলাল

নজর২৪, ঢাকা- সরকারের কে, কোথায়, কবে কি দুর্নীতি করেছে তার সব দলিলপত্র সংগ্রহে আছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

 

সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চরণ করে তিনি বলেন, ‘সব দলিলপত্র রাখা আছে। এটা যদি সিএস খতিয়ান, আরএস খতিয়ান হয়ে যায়। এসএ খতিয়ান ধরে ঘরে ঘরে ঢুকে বিচার করা হবে ইনশাল্লাহ।’

 

সোমবার ঢাকা জেলা বিএনপির উদ্যোগে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাষ্ট্রীয় ‘বীর উত্তম’ খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলাল বলেন, ‘একটা কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই- এই মাফিয়া চক্র, এদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। পুলিশের কোন সর্বোচ্চ কর্মকর্তার কোথায় রিসোর্ট আছে, কোথায় আমোদ-প্রমোদ করে। কোথায় বসে কুকীর্তি করে। সবকিছুর ডকুমেন্ট আমাদের কাছে আছে। কোন সরকারি কর্মকর্তা, কোন সচিব কোথায় বসে সুন্দরী মেয়েদের নিয়ে রঙ্গলীলা করে সব ভিডিও আমাদের কাছে আছে।’

 

তিনি বলেন, ‘যার যেটা নেই, সে নাকি সেটাই হতে চায়। আওয়ামী লীগের মধ্যে হাজার পাওয়ারের লাইট জ্বালিয়েও একজন বীর প্রতীক খুঁজে পাওয়া যাবে না। বীর উত্তম তো অনেক দূরের কথা। এখন নেই বলেই জিয়াউর রহমানকে খাটো করবেন? জনগণ তা মেনে নেবে না।’

 

জিয়ার খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তি‌নি বলেন, ‘কোন জায়গায় হাত দিয়েছেন বুঝতে পারেন নাই। বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে হাত দিয়েছেন। দেশের মানুষের হৃদপিণ্ডে হাত দিয়েছেন।’

 

আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্যে আলাল বলেন, ‘যার যেটা নেই সে নাকি সেটা হতে চায়। আপনাদের চৌদ্দ গোষ্ঠীর মধ্যে হাজার পাওয়ারি লাইট জ্বালিয়ে একজন ‘বীর প্রতীক’ পাওয়া যাবে না। ‘বীর উত্তম’ তো অনেক বড় কথা। এখন আপনাদের নাই বলে কি জিয়াউর রহমানকে খাটো করবেন?’

 

তিনি আরো বলেন, ‘আপনাদের মন্ত্রিসভায় এমনও লোক আছে মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ছয় বছর, তাকেও মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। এই মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় খা‌লেদা জিয়ার পবিত্র হাতে সৃষ্টি, আপনারা করেন নাই।

 

মুক্তিযোদ্ধার কথা বলে বলে চোখের পানি নাকের পানি এক করে ফেলেন। আপনাদের মনে ছিল না, কেন মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় করেন নাই? কেন বেগম খালেদা জিয়ার মুখ দিয়ে ঘোষণা করতে হলো?’

 

আলাল ব‌লেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের পরে নারীর সম্ভ্রম হরণের কারণে হুমায়ূন আহমেদ যাকে নিয়ে বই লিখেছিলেন এই হচ্ছে সেই কুখ্যাত আ খ ম মোজাম্মেল হক। যে বইয়ের একাংশ নিষিদ্ধ করেছে এই সরকার। হুমায়ূন আহমেদের সেই বইয়ের নাম হচ্ছে ‘দেয়াল’। যদি আসল কপিটা কেউ পান তাহলে পড়ে দেখবেন, এই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রীর সকল কুকর্মের কথা লেখা আছে। সেই মোজাম্মেল মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী হয়ে রাজাকারদের তালিকায় মুক্তিযোদ্ধা, মৃত মুক্তিযোদ্ধা এবং মুক্তিযোদ্ধার পরিবারদের নাম ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার।’

 

পুলিশের উদ্দেশ্যে আলাল বলেন, ‘আপনাদের ইউনিফর্মের মধ্যে ব্যাচের মধ্যে ‘আওয়ামী লীগ পুলিশ’ লেখা নাই, ‘বিএনপির পুলিশ’ লেখা নাই। আপনাদের ইউনিফর্মে লেখা আছে বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন। আপনারা পথ ভ্রষ্ট হবে না। খোঁজ নিয়ে দেখেন, আপনাদের আত্মীয়দের মধ্যে কেউ নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। আর কত নির্যাতন করবেন? আর কত মামলা দেবেন? আপনাদের কলমের কালি শেষ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। বিজয় ছিনিয়ে না আনা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *