রংপুরে মধ্যরাতে হোস্টেল ত্যাগে বাধ্য করা হলো ৩২ নেপালি শিক্ষার্থীকে!

সাইফুল ইসলাম মুকুল, রংপুর ব্যুরো- রংপুরের নর্দান মেডিক্যাল কলেজের ৩২ নেপালি শিক্ষার্থীকে রাতের বেলা হোস্টেল থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। নেপালি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল নগরীর পাকার মাথা এলাকায় নুরুল ইসলামের ভবনে রোববার রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ইন্টার্নশিপ করার জন্য এক মাস ধরে আন্দোলন করছেন বলে তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে, শিক্ষার্থীরা হোস্টেল ভাড়া দেয়নি বলে বাড়ির মালিক তাদের বের করে দিয়েছে।

 

নেপালি শিক্ষার্থী সংগীত সাহা বলেন, আমরা যখন ভর্তি হই, তখন হোস্টেল খরচ ও কলেজের সব টাকা একবারেই দিয়া। তো হোস্টেল থেকে বের করে দিবে কেন আমাদের? এক মাস আগে আমরা যখন আন্দোলন করেছি তখন তারা এক মাসের সময় চায়। আমরা দিয়েছি। কিন্তু কই ইন্টার্নশিপ তো করতে পারছি না। আমাদের ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, সঙ্গে টাকাও নেই। অ্যাম্বাসিতে গিয়েছি; তারাও কিছু করছে না।

 

নর্দান মেডিক্যাল কলেজের পরিচালক আফজাল হোসেন জানান, নেপালি শিক্ষার্থীদের আবাসিক হোস্টেল হিসেবে নুরুল ইসলামের চার তলা ভবনের দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়া হয়।

 

গত ১১ মাসের ভাড়া বাকি থাকলেও কিছু টাকা পরিশোধ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। কিন্তু কলেজের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে একটি অসাধু মহল পরিকল্পিতভাবে এই ঘটনা সাজিয়েছে। শিক্ষার্থীদের কোনো ভয়-ভীতি দেখিয়ে হোস্টেল থেকে বের করে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

হোস্টেল মালিক নুরুল ইসলাম বলেন, এই তিনটি ফ্ল্যাটের মাসিক ভাড়া ৬৫ হাজার টাকা হিসেবে গত আট মাসের ভাড়া বকেয়া আছে। এ নিয়ে আমি অনেক বার কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আমার ব্যাংক লোন আছে। তারা (ব্যাংক) চাপ দিচ্ছে। ভাড়া না দিলে ব্যাংকের কিস্তি শোধ করব কীভাবে? রবিবার রাতে শিক্ষার্থীরা বাইরে গেলে ভবনের মূল গেটে তালা লাগিয়ে দেই। রাতেই রংপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে নেপালি শিক্ষার্থীরা।

 

ওই থানার ওসি আব্দুর রশিদ জানান, অভিযোগ পাওয়ার পর রাতেই তাদের হোস্টেলে উঠিয়ে দেয়া হয়।

 

রংপুরের বেসরকারি এই মেডিক্যাল কলেজ স্থাপন হয় ২০০১ সালে। সে বছরই শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমোদন দেয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। নিয়মিত তিন শিক্ষাবর্ষে শিক্ষার্থী ভর্তি করালেও শর্ত পূরণ না করায় কার্যক্রম বন্ধ করে দেয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

 

অনেক দেন-দরবার করে ২০০৯ সালে আবারও শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি পেলেও ২০১৫ সালে কঠোর হয় মন্ত্রণালয়। ফের কলেজটির কার্যক্রম বন্ধ করতে নির্দেশ দেয়। ততক্ষণে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে যায়। তখন থেকেই অনুমোদন ছাড়াই চলছে প্রতিষ্ঠানটি।

 

কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক খলিলুর রহমান বলেন, সম্প্রতি বাংলাদেশ মেডিক্যাল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা এবং বৈঠক হয়েছে। আমরা কাগজপত্র নিয়ে মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তরে যাচ্ছি সমাধানের জন্য। যথাসম্ভব চেষ্টা করা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান হবে আশা করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *