নজর২৪ ডেস্ক- মসজিদ ভেঙে শপিং মল ও মাদরাসা উচ্ছেদ করে পার্ক করার অভি-যোগ এনে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে সমাবেশ করেছে নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদ।
শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর শহরের চাষাড়া এলাকার বাগে জান্নাত মসজিদ এর সামনে কয়েক হাজার মুসল্লি ও শত শত আলেম-ওলামা এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
মুসল্লিদের অভিযোগ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভী প্রায় অর্ধশত বছরের প্রাচীন বাগে জান্নাত মসজিদ ও মাদরাসা ভেঙে ফেলতে চিঠি দিয়েছেন।
এদিকে সমাবেশ থেকে সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভীর বিরুদ্ধে ফতোয়া দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ ওলামা পরিষদের প্রায় অর্ধশত ওলামা। তারা এ সময় শহরের কয়েকটি মসজিদ ও মাদরাসা দখল ও ভাঙার প্রতিবাদ জানিয়ে মেয়র আইভীর বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। অন্যথায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ঘেরাও করার ঘোষণা দেন তারা।
ওলামা পরিষদের নেতারা বলেন, মাদরাসা ভেঙে পার্ক কেন করতে হবে? শহরে কি আর জায়গা নেই? জনগণের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে এ ধরনের কাজ কেন মেয়র করবেন? যারা মসজিদ ও মাদরাসায় হস্তক্ষেপ করে তাদের পরিণাম কখনো ভালো হয় না।
বক্তারা বলেন, হকারদের ধাওয়া খেয়ে আপনি (মেয়র আইভী) চিৎপটাং হয়ে গেছেন। তৌহিদি জনতাকে খেপাবেন না। আপনি ও আপনার পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জিউস পুকুর দখল করেছেন, সেটি ছেড়ে দেন। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বলবো, আপনারা এগিয়ে যান, আমরা আপনাদের সাথে আছি। মেয়র এসব করবেন না, সামনে নির্বাচন। এসব করলে নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি অলিগলি থেকে আওয়াজ আসবে—আইভীকে ঠেকাও, আইভীকে হটাও।
ওলামা পরিষদ নারায়ণগঞ্জ মহানগরের সাধারণ সম্পাদক মুফতি হারুন অর রশিদ বলেন, মেয়র আপনি কোন ধর্মের সেটি আগে ঠিক করেন। মসজিদ ভাঙবেন, মাদরাসা ভাঙবেন—এসব হবে না। প্রয়োজনে আমরা কঠোর আন্দোলন ঘোষণা করব।
ওলামা পরিষদের সহ-সভাপতি মাওলানা কামাল বলেন, আপনি (মেয়র আইভী) মসজিদ-মাদরাসা নিয়ে খেলবেন না। খেলতে আমরাও পারি। মসজিদ-মাদরাসা রক্ষার লড়াইয়ে মাওলানা ফেরদাউস ও আব্দুল আওয়াল একা নন, তাদের সঙ্গে আছে লাখো তৌহিদি জনতা। এবার আইভীকে বুড়িগঙ্গায় পাঠাবে ওলামা পরিষদ।
ওলামা পরিষদের সমন্বয়ক ও মহানগর ওলামা পরিষদের সভাপতি মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, আমার কাছে অনেক ফোন আসছে—অনেক মামলা খেয়েছেন, আরও খাবেন। আমি তো জেলও খেটেছি, এসব ভয় দেখাবেন না।
সিটি মেয়র আইভীকে উদ্দেশ্য করে মাওলানা ফেরদাউসুর রহমান বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ করলাম এই মসজিদ-মাদরাসায় আপনি হাত দিতে পারবেন না। যদি হাত দেন তাহলে পুরো নারায়ণগঞ্জবাসীকে সঙ্গে নিয়ে আপনাকে মোকাবিলা করা হবে। কোনো ব্যক্তির পক্ষে না থেকে সাংবাদিক ভাইরা মসজিদ-মাদরাসার পক্ষে থাকুন। এখানে পার্ক হলে কি তিনি এসে বাদাম খাবেন নাকি জনগণ আসবে? জনগণ তো মসজিদ-মাদরাসা ভেঙে পার্ক চায় না। মাদরাসার জায়গা ছেড়ে দেন, এই মাদরাসার জায়গা মেয়রের বাবার না। জনগণ যে সিদ্ধান্ত নেবে সেটাই বাস্তবায়ন হবে।
তিনি আরও বলেন, হিন্দুদের খেপিয়েছেন। হাটহাজারী মাদরাসার পাশে একটি কালীমন্দির আছে। যখন মাদরাসায় মিছিল হয় তখন আমাদের ছেলেরা আগে মন্দির পাহারা দেয়। আর তাই আপনি কাউকে ভুল বুঝাতে পারবেন না। আপনি ডিআইটি হুজুরকে ফোন দেন, হস্তক্ষেপ করতে চান। আমরা কারো লোক নই, আল্লাহর লোক। আপনার সাথে খেলতে চাই, আপনার সাথে ওপেন খেলা হবে। সিটি-মিটি বুঝি না, জনগণের বাইরে গেলে আপনাকে উচিত জবাব দেওয়া হবে।
এদিকে সমাবেশের আগে জুম্মার নামাজের পর ঐ মসজিদের অভ্যন্তরেও এই ইস্যুত ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুসল্লিরা।
সেখানে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর শওকত হাশেম শকু মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রয়োজনে কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করব, বুকের তাঁজা রক্ত ঢেলে দেব। কিন্তু মসজিদ মাদরাসা ভেঙে শপিং মল আর পার্ক করতে দেব না। আল্লাহর ঘর মসজিদ আর পবিত্র কোরআন হাদিস যেখানে পড়ানো হয় সেই মাদরাসার প্রশ্নে আমরা ছাড় দেব না।
মসজিদ কমিটির সদস্য ও মহানগর যুবলীগের সভাপতি শাহাদাৎ হোসেন সাজনু বলেন, ছোট বেলায় দেখেছি এখানে টিনের ঘরে নামাজ হতো। সম্পূর্ণ মুসল্লিদের অনুদানে সেই মসজিদ এখন ৩ তলা। সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এখানে মসজিদ ভেঙে শপিং মল আর মাদরাসা ভেঙে পার্ক করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। এই উদ্যোগ কখনোই বাস্তবায়ন করতে দেয়া হবে না। মসজিদের উন্নয়ণ করতে চাইলে উপরে পিলার দিয়ে করেন, কিন্তু শপিং মল করে দোকান বাণিজ্য করবেন সেটা হবে না।
