নজর২৪ ডেস্ক- ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে বিভিন্ন কারণে শূন্য হওয়া ৬৮টি পদে নতুন নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ঘোষিত ৬৮ জনের মধ্যে অন্তত ৩০ জনের মতো বিতর্কিত ব্যক্তি রয়েছেন— এমন অভিযোগ করেছে ছাত্রলীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের একটি অংশ। বিবাহিত, চাকরিজীবী, অছাত্র, মাদকাসক্ত ও চাঁদাবাজির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ আছে এমন নেতারাও ঠাঁই পেয়েছেন বলে দাবি তাদের।
বুধবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করে অব্যাহতি পাওয়া নেতাদের একাংশ৷ ‘ছাত্রলীগকে বিতর্কমুক্ত ও শুদ্ধিকরণের নামে চলমান অপরাজনীতি ও অপসংস্কৃতির প্রতিবাদে’ এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়৷
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ছাত্রলীগের কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই নেতা—আহসান হাবীব ও মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সী। হাবীব ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আর মাহমুদ ছিলেন উপদপ্তর সম্পাদক। দ্রুত নতুন সম্মেলনের মাধ্যমে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এসময়য় সংগঠনের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের পদত্যাগ দাবি করেছেন। তাদের অভিযোগে, তাদেরকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটিতে যাদের জায়গা দেয়া হয়েছে, তাতে অনেক বিতর্কিত নেতা স্থান পেয়েছেন। বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি করতে গিয়ে আর্থিক লেনদেন হয়েছে। আবার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাংগঠনিক দায়িত্ব ভাগ করতে ব্যর্থ হয়েছেন ছাত্রলীগের দুই শীর্ষ নেতা।
পাশাপাশি কী অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে, সেটাও তাদের জানানো হয়নি। আবার তাদেরকে অভিযোগ খণ্ডানোর সুযোগও দেওয়া হয়নি।
ছাত্রলীগের সাবেক উপদপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আবদুল্লাহ বিন মুন্সি।
তিনি বলেন, কোন অভিযোগ এবং কিসের ভিত্তিতে সেগুলো প্রমাণিত হয়েছে তার কোনো ব্যাখ্যা ছাত্রলীগের পক্ষে থেকে তাদের দেয়া হয়নি। অব্যাহতি পাওয়ার পর তারা জয় ও লেখকের কাছে এসব বিষয়ে জানতে চেয়েও জবাব পাননি।
মাহমুদ বলেন, ‘আমরা মুজিব আদর্শের সৈনিক, দেশরত্ন শেখ হাসিনার কর্মী। এটাই আমাদের বড় পরিচয়। অনৈতিকভাবে আমাদের সঙ্গে কেন অবিচার করা হলো? সংগঠনের একজন পরিশ্রমী কর্মী হিসেবে আমরা চাই চলমান অপরাজনীতি বন্ধ হোক।’
বিতর্কিত তকমা দিয়ে দুঃসময়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে তাদের স্থলে বিবাহিত, মাদকাসক্ত, বহিষ্কৃত, বেশি বয়সী ও মামলার আসামিদেরকে পদায়ন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মাহমুদ।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত বিতর্কিতদের রক্ষা করতে বিতর্কিতদের ঘাড়ে বন্দুক রেখে বঙ্গবন্ধু ও দেশরত্ন শেখ হাসিনার আদর্শিক কর্মীদের বলি দিয়ে যে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছে তা প্রকৃতার্থে নেত্রীর সাথে প্রতারণার শামিল।’
অব্যাহতিপ্রাপ্তরা দাবি করেন, সাংগঠনিক নিয়ম নীতি না মেনে তাদের অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তারা প্রশ্ন তুলেন, অব্যাহতি প্রাপ্ত ২১ জনকে কী কারণে অব্যাহতি দেওয়া হলো তা কেনও জানানো হয়নি? কিসের ভিত্তিতে অব্যাহতিপ্রাপ্তদের অভিযোগ (দৈবিক) প্রমাণিত হয়েছে? সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী অভিযোগের ব্যাপারে অভিযুক্তদেরকে কেনও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়নি?
সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী নির্বাহী সংসদের কোনও অধিবেশন ছাড়া কিভাবে অব্যাহতি দেওয়া হলো? বিগত এক বছর দুই মাসেও বারবার অব্যাহতির কারণ জানতে চাইলেও দায়িত্বশীলরা কেনও বিষয়টি এড়িয়ে গেলেন? অব্যাহতি প্রাপ্তদের ইস্যু সমাধান না করে কিভাবে সেই পদে নতুন করে পদায়ন করা হয়? পুনঃতদন্তের আশ্বাস দিয়েও কেনও, কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হলো না? সম্প্রসারিত কমিটি না করে ৩০১ সদস্য কমিটির ভেতরেই পদোন্নতি দেওয়া হলো কিভাবে? শুদ্ধি অভিযান ও বিতর্কমুক্ত ছাত্রলীগের অজুহাত দেখিয়ে বিতর্কিতদের পদায়ন করে প্রহসন কেন?
এই সময় তারা ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় এবং সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্যের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি অভিযোগের কথা জানান।
অভিযোগগুলো হলো, তৃণমূলের ইউনিটগুলোর কার্যক্রম গতিশীলতা না রাখা, সম্মেলন না করে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কমিটি প্রদান, বিভিন্ন ইউনিটের কমিটি করতে গিয়ে আর্থিক লেনদেনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়া, মধুর ক্যান্টিন ও পার্টি অফিসে অনিয়মিত হওয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির পদধারীদের ফোন না ধরা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে নেতৃত্বের সেশন জট ও উপর মহলের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।
এ অবস্থায় সাংগঠনিক গতিশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এবং ছাত্রলীগের ভাবমূর্তি পুনরায় জাগ্রত করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানান তারা।
