বগুড়ায় বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ায় বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে এক হোমিও ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের মালিকসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

 

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা ৩ ফেব্রুয়ারী বুধবার দুপুর ১২টায় বগুড়া সদর থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, রেকটিফাইড স্পিরিটের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কারণেই তা বিষাক্ত হয়ে উঠেছে। যা পান করে এ পর্যন্ত মোট ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

 

বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রির অভিযোগে যে চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা হলেন- শহরের ফুলবাড়ি এলাকার পারুল হোমিও ল্যাবরেটরিজের স্বত্বাধিকারী নুরনবী (৫৮), শহরের গালাপট্টি এলাকার মুন হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী আব্দুল খালেক (৫৫), করতোয়া হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী শহিদুল আলম সবুর (৫৫) ও হাসান হোমিও হলের কর্মচারী আবু জুয়েল।

 

বগুড়া সদর থানার ওসি হুমায়ুন কবির জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে বিষাক্ত মদ উৎপাদন এবং বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। গত রোববার রাতে শহরের পুরান বগুড়া এলাকায় একটি বিয়ের বাড়িতে মদপানের পর একপর্যায়ে বেশ কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে একজন এবং আরেকজন পরদিন ভোরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে মারা যান।

 

অন্যদিকে ওই রাতেই শহরের কালিতলা এলাকায় এবং ভবের বাজার এলাকায় মদ পান করে আরও ৪ জনের মৃত্যু হয়। এরপর বিষাক্ত মদ পানে বগুড়ার কাহালু এবং শাজাহানপুরে আরও ৪ জনসহ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত মোট ১৫ জনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে।

 

ওই ঘটনায় বিষাক্ত মদ পানে অসুস্থ দেলোয়ার হোসেন রঞ্জুর ভাই মনোনয়ার হোসেন সোমবার রাতে বগুড়া সদর থানায় হোমিও ওষুধ উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৩টি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীসহ মোট ১৬ জনের নামে মামলা করেন। পরদিন মঙ্গলবার জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বিষাক্ত মদ উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু করে।

 

মঙ্গলবার একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের বেশ কয়েকটি হোমিও ওষুধের দোকানে অভিযান চালিয়ে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এরপর রাতে পুলিশ অভিযানে নামে এবং ৪ জনকে গ্রেপ্তার করে।

 

বুধবার দুপুরে বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূঞা বলেন, ‘আমরা চিকিৎসক এবং মৃত ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে আট জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।’

 

তিনি বিষাক্ত মদ উৎপাদন এবং বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রাখার কথা জানিয়ে বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃত ৪জন প্রাথমিক জিজ্ঞাবাদে রেকটিফাইড স্পিরিটের সঙ্গে মিথানল মেশানোর কথা স্বীকার করেছন। তবে তারা দাবি করেছেন ওই দু’টি উপাদান মিশ্রিত করলে তা বিষাক্ত হয়ে ওঠে কি-না সেটি তাদের জানা নেই’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *