মোঃ নজরুল ইসলাম, ঝালকাঠি প্রতিনিধি: ঝালকাঠির রাজাপুরে মাতৃস্নেহে আশ্রয় দিয়ে শিক্ষা ও চাকুরী দেয়ার প্রতিদানে সন্তানহীন এক অসহায় নারীর বসতঘর ও জমি দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসা শিক্ষক শাহিন হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
গত ২ ফেব্রুয়ারী মঙ্গলবার জমির মালিক বৃদ্ধা শাহিনুর বেগম কেওতা ঘিগড়া ফাজিল মাদ্রাসার শিক্ষকের কুকর্ম তুলে ধরে থানা পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে।
অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে খোঁজখবর কালে অসহায় শাহিনুর বেগমের সাথে মানুষ রুপী শাহিনের এহেন প্রতারনা ও বিশ্বসঘাতকতার নির্মম কাহিনী উঠে এসেছে।
সম্প্রতি কর্মস্থলে অনৈতিক কর্মকান্ডের দায়ে জেলহাজত ঘুরে আসা শাহিনের নান অপকর্ম, দুর্নীতির কাহিনী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ভাইরাল হয়েছে বলে জানাগেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজাপুর সদরের টিএন্ডটি সড়কের মৃত তুজাম্বর আলী জমাদ্দারের মেয়ে ও প.প. বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী নি:সন্তান শাহিনুর বেগম তার নিজেস্ব সম্পত্তি ও ঘরে একাই বসবাস করতেন এবং শাহিন হাওলাদার কেয়ারটেকার হিসেবে তার দেখাশুনা করে আসছে।
চারমাস পূর্বে সে অসুস্থ্য হয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকা গেলে সেই সুযোগে শাহিন তার জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণ শুরু করে। এমনকি জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে শাহিন জমির দলিলও তৈরি করেছে বলে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পায়।
এ অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন শাহিনুর বেগম ই-মেইলের মাধ্যমে আইনের সহায়তার প্রার্থনা করে থানা পুলিশ ও সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ পাঠান।
স্থানীয় বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানায়, শাহিনুর বেগমের বাসার কাজের মহিলার ছেলে শাহিনকে ছোট থাকতে পালিত পুত্র হিসাবে গ্রহন করে। দীর্গ ২০ বছর ধরে মাতৃস্নেহে আশ্রয় ও পড়াশুনা শেষ করে মাদ্রাসা শিক্ষক হিসেবে চাকুরি পাইয়ে দিতে শাহিনুর বেগম লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে।
অথচ ধূর্ত শাহিন কূটকৌশল চালিয়ে শাহিনুর বেগমের অবসরের প্রাপ্ত সব টাকা হাতিয়ে নেয় ও বসত বাড়ীসহ জাল-জালিয়াতি করে লিখিয়ে নেয়ায় প্রচন্ড আঘাতে মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক মো. শাহিন হাওলাদার জানায়, “সম্পূর্ন অভিযোগ মিথ্যা ভিত্তিহীন। আমি আমার জমিতেই ভবন নির্মাণ করছি। আমি কারো সাথে প্রতারনা বা জালিয়াতী করিনী”।
রাজাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “অসুস্থ্য শাহিনুর বেগমের সাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ ই-মেইলের মাধ্যমে পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত পূর্বক পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
