নজর২৪ ডেস্ক- কওমি শিক্ষার্থীদের জন্য বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য যাওয়া খুব সহজ উল্লেখ করে সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী বলেন – ‘সঠিকভাবে কাজ করলে ৬ মাসের মধ্যেই কওমি শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়ার ব্যবস্থা করা সম্ভব।’
এছাড়াও ‘কওমি শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়ার সকল ব্যবস্থা করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করারও আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।’
বাংলাদেশে কওমী শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার সমস্যার সমাধান নিয়ে ‘মুসলিম ইয়ুথ সার্কেলে’র সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
রাজধানী ঢাকার ফকিরাপুলের হোটেল রাহমানিয়া রুফটপ রেষ্টুরেন্টে আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) দিনব্যাপী এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
মাদরাসা দারুর রাশাদ এর প্রিন্সিপাল মাওলানা মুহাম্মদ সালমান এর সভাপতিত্বে ও মুসলিম ইউথ সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মোহাম্মদ মনযূরুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মাননীয় সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন – ‘কওমি মাদরাসার জন্য কওমি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার প্রয়োজন আছে। এটা নিয়েও আমি কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। কওমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কওমি ছাত্রদের যেতে আরও সহজ হবে। তবে কওমি বিশ্ববিদ্যালয় না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়টি কিভাবে হতে পারে তা আমরা খুব দ্রুতই দেখবো। সে ক্ষেত্রে কওমি মাদরাসা শিক্ষার সম্মিলিত শিক্ষা সংস্থা আল হাইআতুল উলয়ার অধিনে অনুমোদন হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।’
তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন – মুসলিম ইয়ুথ সার্কেল যদি আল হাইআর অধিনে ওয়ার্কিং প্ল্যান করেন এ বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা দরকার হয় তাহলে আমার পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।
তিনি আরও বলেন, কওমি মাদরাসার সার্টিফিকেট দিয়ে অবশ্যই সরকারি বেশকিছু জায়গায় চাকরি করা সম্ভব। বিশেষ করে দারুল আরকাম, সরকারি মসজিদ কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন পর্যায়ে দাওরায়ে হাদিসের সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়া সম্ভব।
আবু রেজা নদভী বলেন – কওমি ছাত্রদের দেওবন্দ ও নদওয়ায় যাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই আমি কাজ করবো। প্রয়োজনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদির সাথে আমরা সাক্ষাত করবো। এছাড়াও যেসব পদক্ষেপ নেওয়া দরকার তা নেবো। বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রনালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়সহ প্রতিটি সেক্টরে আমি এসব নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দেবো।
তবে কওমি ছাত্রদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জনের অনুমতি নেওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই ওয়ার্কিং প্লেসে কাজ করতে হবে। বক্তব্যে তিনি আল্লামা শাহ্ আহমদ শফী রহ. এর স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন আল্লামা শাহ্ শফী রহ বেঁচে থাকলে বিদেশে উচ্চশিক্ষায় কওমি ছাত্রদের যাওয়ার বিষয়টি অনুমোদন হয়ে যেত। তবে আপনারা এ বিষয়টি চাইলে খুব দ্রুতই হয়ে যাবে।
প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী একজন ইসলামিক স্কলার ও রাজনীতিবিদ। জন্ম ১৯৬৮ সালের ১৫ আগস্ট চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নে।
২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
তিনি আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান,আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের (আইআইইউসি) অধ্যাপক এবং শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য। এ ছাড়াও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের শরীয়াহ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান।
এর আগে আবু রেজা নদভী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ান ট্রাস্টের সদস্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য ছিলেন, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামীক রিলিফ অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ শাখার নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইন্টারন্যাশনাল লীগ ফর ইসলামিক লিটারেচারের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
