সিরাজগঞ্জে শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে কলেজ শিক্ষিকা গ্রেফতার

রাজিব আহমেদ রাসেল, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে শিশু গৃহকর্মীকে অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগে সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের লেকচারার শিউলী মল্লিকাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

 

সিরাজগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ বাহা উদ্দিন ফারুকী জানায়, গত ৭ জানুয়ারী শিউলি মল্লিকা গৃহকর্মী শিশু মিনতি খাতুন (১০) হারিয়ে গেছে মর্মে সাধারন ডায়রি করেন।

 

এরপর ৯ জানুয়ারী সন্ধায় শিশু মিনতিকে অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় এনে জিজ্ঞাবাদে জানাযায় শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকা অমানবিক নির্যাতন সইতে না পেরে বাসা থেকে বেরিয়ে যায় এবং মিনতির শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

 

প্রতিদিন এই ফুলের মতো শিশুকে নির্যাতন করা হতো বলে মিনতি জানায়। মিনতির বাবা মক্কা ও মা মমতা মারা গেছে মিনতির ৬মাস বয়সে। সে গৃহকর্মী নানী রহিমা খাতুনের কাছে বড় হয়।

 

নানীর অভাবের সংসারে খাবার না পেয়ে ৯ বছর বয়সে গৃহকর্মীর কাজে আসে সিরাজগঞ্জ শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ২৫০ শয্যাহাসপাতালের ডাক্তার নুরুল ইসলাম ও তার দ্বিতীয় স্ত্রী সিরাজগঞ্জ সরকারী কলেজের দর্শন বিভাগের শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকার শহরের ফজল খান বোডের বাসায়।

 

গৃহকর্মী হিসেবে কাজে যোগদানের মাস খানেক পর থেকেই শিউলি মল্লিকা শিশু মিনতির উপর অমানবিক নির্যাতন করতো। এক পর্যায়ে গত ৭ জানুয়ারী শিউলির নির্যাতন সইতে না পেরে এতিম মিনতি বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

 

অসুস্থ্য শরীর আর চোখের পানি দেখে সন্ধায় কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট গ্রামের জাহানারা নামে এক মহিলা মিনতিকে উদ্ধার করে চিকিৎসা ও খাবার দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে মিনতিকে পুলিশের কাছে বুঝে দেয়।

 

খবর পেয়ে মিনতির অভিভাবক খালু আবুল কাশেম বাদী হয়ে মামলা করেন। পুলিশ তাৎক্ষনিক শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকাকে গ্রেফতার করে।

 

দু চোখে অঝোরে কান্নারত নির্যাতিতা মিনতি খাতুন জানান, আমি ছোট থাকতে বাবা মা মারা গেছে নানীর কাছে থেকেছি নানী অন্যের বাসায় কাজ করে যে খাবার আনে তাই আমরা খেয়েছি। এখানে একটু পেট ভারে খাবার জন্য নানী আমাকে কাজে রেখে ছিলো।

 

কিন্তু এই শিউলি আপা আমাকে প্রতিদিন মারতো, হাত দিয়ে, ঝাড়ু দিয়ে, লাঠি দিয়ে কখনো চামচ ও খুন্তি দিয়ে যখন যা হাতে কাছে পেতো তাই দিয়ে আমাকে মারতো। আমি পরশুদিন তার মাইর সইতে না পেরে বাড়ী থেকে বেড় হয়ে গেছি। আমি বাঁচতে চাই আর শিউলি আপার বিচার চাই।

 

মামলার বাদী মিনতির খালু আবুল কাশেম জানান, মিনতির ৬ মাস বয়সে বাবা মা মারা গেছে তিন বোন আর এক ভাইয়ের মধ্যে মিনতি সবার ছোট। পিতা মাতা হীন অভারে সংসারে অন্যেদের সহযোগীতায় চলে ওদের সংসার। নানী বৃদ্ধ মানুষ অন্যের বাড়ীতে কাজ করে ওদের খাবার দেয়। আমিও মিনতির বড় বোনকে পালি।

 

আমরা গরিব মানুষ একটু ভালো থাকার জন্য এই ডাক্তার আর মাষ্টারের বাড়ীতে রেখে ছিলাম। কিন্তু এই মাষ্টার যে এতো খারাপ তা জানতামনা। যে ভাবে এই ছোট এতিম বাচ্চাকে মেরেছে তা আপনারা না দেখলে বুঝবেন না, আমরা এই নবপশুর বিচার চাই।

 

গ্রেফতারকৃত শিক্ষিকা শিউলি মল্লিকাকে আজ সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হলে মল্লিকার ৩মাসের শিশু সন্তান থাকায় মানবিক দৃষ্টিতে মাননীয় আদালত তাকে জামিন দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *