বগুড়ায় প্রতিবন্ধীকে দিনের পর দিন ধর্ষণ, সাত মাসের অন্তঃসত্বা

সাখাওয়াত হোসেন জুম্মা, বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শিবগঞ্জের পল্লীতে বিধবা প্রতিবন্ধী নারী (২৫) কে দিনের পর দিন ধর্ষণ করায় ওই প্রতিবন্ধী নারী সাত মাসের অন্তঃসত্বা হয়।

 

বৃহস্পতিবার ৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, প্রতিবন্ধীর মা নুরজাহান বেগম বাদি হয়ে আগে অভিযোগ করেছিল পরে মামলা দায়ের করেছে। আমরা অভিযোগ পেয়েই আসামীকে গ্রেফতার করি।

 

মামলা ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের গনকপাড়া গ্রামের মোঃ বাকিউল্লার ছেলে আফজাল হোসেনের সাথে সাত বছর পূর্বে ওই প্রতিবন্ধী নারীর বিবাহ হয়। বিয়ের সাড়ে ৫ বছরের মধ্যে তাদের দুটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। দেড় বছর পূর্বে ওই প্রতিবন্ধী নারীর স্বামী আফজাল হোসেন মারা যায়।

 

স্বামী মারা যাওয়ার পর স্বামীর বাড়িতে থেকেই সে দু’সন্তানকে নিয়ে ভিক্ষা করে সংসার চালাতো। এদিকে গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বাসাপাড়া গ্রামের রহিম উদ্দিনের ছেলে বাদল মিয়া এলাকার ঘর জামাই হিসেবে থাকতো।

 

স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুযোগে মাঝে মধ্যে সে বিধবা প্রতিবন্ধী নারীর বাড়িতে যাতায়াত করতো এবং বিভিন্ন সময় ভয়-ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করতো প্রতিবন্ধী ওই নারীকে। প্রতিবন্ধী নারীর গর্ভের সময় বাড়তে থাকলে তার চেহারায় পরিবর্তন আসার ফলে সন্দেহ হয় এলাকার সাধারণ মানুষের।

 

বিষয়টি ধর্ষক বাদল টের পেয়ে ভয় পেয়ে যায় এবং গনকপাড়া গ্রামের মোঃ বিশা মিয়ার ছেলে এলাকার প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুল ইসলামের কাছে বিয়টি জানিয়ে সেখানেই আশ্রয় নেয়। মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল ওই প্রতিবন্ধী নারীকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে এলাকার কেউ জানার আগেই বাদলের বাড়িতে রেখে দেয়।

 

পরবর্তীতে জাহিদুল এবং বাদল বাচ্চাটা নষ্ট করার পরিকল্পনা করে। এ নিয়ে বিষয়টি এলাকায় কানাঘুষা শুরু হলে পরে ডাক্তারী পরিক্ষায় জানা যায় বিধবা প্রতিবন্ধী নারী সাত মাসের অন্তঃসত্বা। অবস্থা বেগতিক হলে ধর্ষক বাদল আবার আশ্রয় নেয় এলাকার প্রভাশালী ইউপি সদস্য জাহিদুলের কাছে।

 

জাহিদুল ধর্ষক বাদলকে এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলেও এলাকার সাধারণ মানুষের তোপের মুখে লোক দেখানো গ্রাম্য শালিসের আয়োজন করে ইউপি সদস্য জাহিদুল। ওই শালিসে আগে থেকেই জাহিদুলের শিখিয়ে দেওয়া বুদ্ধিতে ধর্ষক বাদল টয়লেটে যাওয়ার কথা বলে পালিয়ে যায়। পরে এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। ৪দিন পরে বুধবার রাত্রিতে প্রতিবন্ধী নারীর মা নুরজান বেগম বাদি হয়ে থানায় মামলা দায়ের করে।

 

প্রতিবন্ধী’র মা নূর জাহান বেগম বলেন, আমি থানায় একটা অভিযোগ দায়ের করেছিলাম অভিযোগ দেওয়ার পর হতেই জাহিদুল মেম্বারসহ অজ্ঞাত কিছু লোকজন আমাকে ভয়ভীতি দেখাচ্ছিল। পরে ওসি স্যার গতকাল থানায় মালমা নিয়েছে।

 

এ বিষয়ে ধর্ষনের শিকার প্রতিবন্ধী নারী বলেন, বাদল আমাকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষণ করতো। আমি কাউকে বলে দিলে সে আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিত।

 

বিষয়টি নিয়ে ইউপি সদস্য জাহিদুল বলেন, বাদল প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণ করেছে এটা সত্যি। ওই মহিলা বর্তমানে সাত মাসের অন্তঃসত্বা। আমি একটা বিচারের ব্যবস্থা করেছিলাম কিন্তু বিচারের দিন বাদল পালিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আইনের আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।

 

এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এসএম বদিউজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, ধর্ষককেও আটক করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *