পাটগ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর ঘর নির্মাণের অনিয়মের অভিযোগ

মোঃ ইউনুস আলী, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় মুজিব বর্ষ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের অধীনে ১২৩ টি ঘর নির্মাণে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। “কাজ ভালো হচ্ছে না বলে ডিসি স্যার একদিন ইটের গাঁথুনি খুলে দিয়েছিল” বলে এলাকাবাসী জানান।

 

জানা গেছে, দুই শতাংশ খাস জমির উপর প্রতিটি টিন শেড বিল্ডিং ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭১ হাজার টাকা। ৩৯৪ বর্গফুটের ওই বাড়িতে নির্মাণ করা হচ্ছে দুটি কক্ষ, রান্নার জায়গা ও একটি টয়লেট।

 

সরেজমিনে উপজেলার জোংড়া ইউনিয়নের মমিনপুর ডাঙ্গীরপাড় এলাকায় ২৫টি, বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর আফতাবনগর এলাকায় ৪০ টি ও বুড়িমারী ইউনিয়নের কামারেরহাট এলাকায় নির্মিতব্য ৫০ টি ঘরের নির্মাণ কাজ ঘুরে দেখা গেছে নানা ধরণের অনিয়ম।

 

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) তত্ত্বাধানে মোট ১২৩টি ঘর নির্মাণ কাজ চললেও এখানে কথা বলার কেউ নেই। ফলে ঘর নির্মাণের নির্দেশনা (স্টিমেড) অনুযায়ী প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্টের পরিমাণ কম মিশিয়ে চলছে ইটের গাঁথুনি। গাঁধুনি নড়বড়ে হচ্ছে বলে জানান এলাকাবাসী।

 

জোংড়া ইউনিয়নের মমিনপুর ডাঙ্গীরপাড় গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল (৫০) বলেন, একটি ছোট বাচ্চাও যদি ধাক্কা দেয় তাহলে ঘর ভেঙে পড়বে। বাউরা ইউনিয়নের নবীনগর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম (৫০) বলেন, কাজ ভালো হচ্ছে না বলে ডিসি স্যার একদিন ইটের গাঁথুনি খুলে দিয়েছিল।

 

বাউরা নবীনগর এলাকার বিধবা এক নারী (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) বলেন, ইটে ও গাঁথা দেওয়ালে কোনো পানি দেওয়া হয় না। তাই খাওয়ার জন্য ঘরে রাখা ধান বিক্রি করে পানি দিতে পাম্প কিনেছি।

 

উপজেলা পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়ণে গঠিত কমিটির সভাপতি পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কামরুন নাহার অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্টিমেডের মধ্যে কাজ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিছু সংশোধনী দেওয়ার চেষ্টা করছি, এ স্টিমেডে হচ্ছে না, আমরা পাচ্ছি না।

 

জেলা প্রশাসক আবু জাফর বলেন, আশ্রয়ন-২ প্রকল্পের ঘর গুলো ভালো ভাবে নির্মাণে বাস্তবায়ণ কমিটি আছে। কাজ সম্পন্ন করতে আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *