নজর২৪ ডেস্ক- হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, আল্লামা শফীকে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক চক্রান্ত। এই মামলা শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিনষ্ঠ করা এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দকে হয়রানি করার হীন ষড়যন্ত্র বৈ কিছু নয়।
অনতিবিলম্বে দায়েরকৃত এ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় দেশের শীর্ষ উলামায়ে কেরামদের সঙ্গে পরামর্শ সাপেক্ষে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো। বুধবার সকালে সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদ্রাসাস্থ হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, আল্লামা শাহ আহমদ শফীর মৃত্যু স্বাভাবিক ছিলো। স্বাভাবিক মৃত্যুর বিষয়টি তাঁর পরিবার ও মাদরাসা কর্তৃপক্ষ সুস্পষ্টভাবে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন। অনেক আগ থেকে আল্লামা শফীর শারীরিক অবস্থা এতই নাজুক ছিল যে, বেশ কয়েকবারই তার মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আহমদ শফী। তিনি হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হেফাজত ইসলামের আমির এবং হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষা পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, রাজনৈতিক নিজস্ব স্বার্থ উদ্ধারের জন্য ও মন্ত্রীর কাছ থেকে ফায়দা লুটের জন্য মামলাটি করেছে। আহমদ শফী জীবিত থাকাবস্থায় তারা ফায়দা লুটেছে।
তারা কারা এমন প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, ‘তারা চিহ্নিত দালাল। তাদের কয়েকজনকে চিনি। তবে এখন তাদের নাম বলব না। দেশবাসী তাদের চেনে।’
মামলায় অভিযোগ করা হয়, হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য আহমদ শফীকে নেওয়ার আগে মাদ্রাসায় তাঁর অক্সিজেন খুলে ফেলা হয়েছে। এই অভিযোগ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জুনায়েদ বাবুনগরী বলেন, অক্সিজেন খোলা হয়নি।
ওই সময় মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা ওমর, মাওলানা আশরাফ আলী, মাওলানা ফোরকানসহ অনেক শিক্ষক ছিলেন। এমনকি আহমদ শফীর ব্যক্তিগত সহকারী (খাদেম) মাওলানা শফিউল আলমও ছিলেন।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মাওলানা শফিউল আলম বলেন, হুজুরের (আহমদ শফী) অক্সিজেন খোলা হয়নি।
সংবাদ সম্মেলনে করা অভিযোগ প্রসঙ্গে মামলার বাদী মোহাম্মদ মঈন উদ্দিনের মুঠোফোনে ফোন করা হলে তিনি ধরেননি। পরে আহমদ শফীর ছেলে আনাস মাদানীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাওলানা মঈনুদ্দীন রুহী প্রথম আলোকে বলেন, আহমদ শফীকে হত্যা করা হয়েছে। তদন্তে তা উঠে আসবে। হুজুরের অক্সিজেন খুলে ফেলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মাদ্রাসার শিক্ষক ও হেফাজত ইসলামের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক নুরুল আবছার আযহারী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলামের উপদেষ্টা মাওলানা মহিবুল্লাহ বাবুনগরী, নায়েবে আমির তাজুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী, যুগ্ম সচিব নাছির উদ্দিন মুনির, সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর ইদ্রিস, সহকারী অর্থ সম্পাদক আহসান উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক জাকারিয়া নোমান প্রমুখ।
হাটহাজারী মাদ্রাসার শিক্ষকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা ইয়াহিয়া, মাওলানা ওমর, মাওলানা ফোরকান, মাওলানা শুয়াইব, মাওলানা আহমদ দিদার, মাওলানা আনোয়ার শাহ, মাওলানা আবদুর সবুর প্রমুখ।
