আবদুল্লাহ রিয়েল, ফেনী প্রতিনিধি : বাঙালী জাতির ঐতিয্যবাহী ও জনপ্রিয় খাবার শীতের পিঠা, পিঠার উপকরণ খেজুর রস, মিঠাই চালের গুড়া ইত্যাদি সংগ্রহ করা ব্যায় সাধ্য বিষয়। অনেক সময় দরিদ্র পরিবার গুলো সংগ্রহ করতে পারেনা, সেক্ষেত্রে তাদের ভরসা ফুটপাতে বানানো পিঠা।
শীতের আগমনিতেই ফেনীর ফুটপাতে দেখা গেছে পিঠা বিক্রির ধুম, শহরের রেলওয়ে স্টেশন, মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে, শহীদ মিনারের সামনের রাস্তায়, রাজাজীর দীঘির পাড়সহ ট্রাংক রোড ও এস.এস.কে রোডের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতে বিক্রি হচ্চে শীতের পিঠা। মাত্র ৫-১০টাকায় তাৎক্ষনিক বানানো গরম গরম পিঠার স্বাদ নিচ্ছে মানুষ।
এসব পিঠার কাষ্টমার দরিদ্ররা বেশি হলেও অভিজাত ধনী পরিবারেও যায় পার্সেল হয়ে। ফুটপাতে তৈরি পিঠার মধ্যে রয়েছে ভাঁপা পিঠা, চিতই পিঠা, ডিমের পিঠা ইত্যাদি। শহরে ঘুরেফিরে পিঠা বিক্রির দৃশ্য অবলোকন করে দেখা গেছে, স্বাদ বাড়ানোর জন্য ভাঁপা পিঠার উপরে মিঠাই ও নারিকেল ছিটিয়ে দেয়া হয়, আর চিতই পিঠার উপরে সরষে বা ধনে পাতা বাটা অথবা শুঁটকির ভর্তা মাখিয়ে দেয়া হয়।
পিঠা প্রেমী মানুষ শীতের পিঠার স্বাদ গ্রহণ করতে ফুটপাতের এসব পিঠার দোকানে প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা ভীড় করছেন। আবার অনেককেই দেখা যাচ্ছে পিঠার দোকানের চুলার পাশে বসেই গরম পিঠা খাওয়াকে রেওয়াজে পরিণত করেছেন। অনেকে পরিবারের চাহিদা মেটাতে পিঠা ক্রয় করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন।
এ ছাড়াও সন্ধ্যার পর ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, দোকান, ক্লাব, আড্ডায়ও ফুটপাতের পিঠা খাওয়ার আয়োজন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শ্রমজীবী, রিক্সা-ভ্যান চালক, বিভিন্ন কাজে নিয়োজিত শ্রমিকসহ অভিজাত শ্রেণীর লোকজনের কাছে অত্যন্ত প্রিয় খাবার শিতের পিঠা।
ফুটপাতে এসব পিঠার দোকান বসছে প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এ সমস্ত ভাসমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকরাই হলো হতদরিদ্র পরিবারের । স্বচ্ছলতা ফেরাতে সংসারে অর্থেও যোগান দিতে তারা রাস্তার পাশে তেল পিঠা, চিতই পিঠা ও ভাঁপা পিঠা তৈরি করে বিক্রি করছে। প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা থেকে ১০ টাকায় বিক্রি করছে তারা।
অল্প খরচে সহজে পিঠা খেতে পেরে ক্রেতারাও খুশি, শহরের ট্রাংক রোডের ফুটপাত থেকে ১০টা ভাঁপা পিঠা পার্সেল করে একজন নিয়ে যাচ্ছিলো বাসায়, কথা বলে জানা গেলো তার নাম বিপ্লব, একটি সরকারি অফিসে কম্পিউটার অপারেটরের চাকুরী করেন, তিনি বলেন মাত্র ১০০টাকায় পরিবারের ৫জন সদস্য দুটো করে শীতের পিঠা খেতে পারবো, অথচ বাসায় আয়োজন করতে হলে অনেক খরচ।
ফেনীর রেলওয়ে স্টেশনের পিঠা বিক্রেতা সামছুল বলেন, পেটের দায়ে এই পেশা বেছে নিয়েছি। পিঠা বিক্রি করে পরিবারে স্বচ্ছলতা আনার চেষ্টা করছি, অথচ শান্তি নাই। অনেকে প্রভাব খাটিয়ে ফ্রি খেয়ে চলে যায়, কেউ কেউ পিঠা খেয়ে পিঠার মান ভালো হয়নি বলে ধমকিয়ে টাকা কম দেয়।
শীতের পিঠা বাঙ্গালী জাতির আবহমান কালের সংস্কৃতি হলেও ঝামেলা এড়াতে অনেকে বাসা বাড়ীতে পিঠা বানাতে চাননা, কিন্তু খাওয়ার মনোভাব সবারই আছে। এতে করে ফুটপাতের পিঠা বিক্রি বাড়ছে দিনদিন।
