শত মিথ্যা মামলা দিয়েও উলামায় কেরামকে স্তব্ধ করা যাবে না: আল্লামা কাসেমী

নজর২৪, ঢাকা- হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী ও যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ কর্তৃক মামলা দায়েরের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী।

 

মঙ্গলবার (৮ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হেফাজত মহাসচিব বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি, ইসলামের আক্বিদা-বিশ্বাস ও বিধানের বিরুদ্ধে গিয়ে পৌত্তলিকতা প্রসারের রাষ্ট্রীয় গোমরাহির পথ পরিহার করার আহ্বান জানানোয় ইসলামবিদ্বেষী একটি অশুভ শক্তি আলেম-উলামা ও তাওহিদী জনতার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার, কটূক্তি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশব্যাপী ওয়াজ-মাহফিলে প্রশাসনিক বাধাদানের ঘটনাও ঘটছে।

 

এর ধারাবাহিকতায় হেফাজত আমীরসহ দেশবরেণ্য তিন জন আলেমের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ নামের একটি ভূঁইফোড় সংগঠন গতকাল রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে। আমরা অবিলম্বে এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ ওয়াজ-মাহফিলে বাধাদান এবং আলেম-উলামাদের বিরুদ্ধে সকল অপপ্রচার বন্ধের জোর দাবি জানাচ্ছি।

 

তিনি বলেন, দেশবাসী ষড়যন্ত্রকারীদের অসৎ উদ্দেশ্য কখনো সফল হতে দেবে না। শত মিথ্যা মামলা, অপপ্রচার ও বাধাবিপত্তি দিয়েও উলামায় কেরাম ও তাওহিদী জনতাকে স্তব্ধ করা যাবে না। আমরা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, আলেম-উলামার বিরুদ্ধে অপপ্রচার বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করুন। ভাস্কর্য বিষয়ে দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরামের বক্তব্য ও ফতোয়া অনুধাবন করে সঠিক পদক্ষেপ নিন। ওয়াজ-মাহফিল ও দাওয়াতী কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করুন।

 

আল্লামা কাসেমী বলেন, সরকারের সাথে কোনোরূপ বৈরিতা সৃষ্টি হেফাজতের উদ্দেশ্য নয়। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি, ইসলামবিদ্বেষী গোষ্ঠী সরকারকে আলেমদের সাথে সংঘাতে জড়াতে ভুল প্ররোচণা দিচ্ছে এবং সেইসাথে সরকারদলীয় সংগঠনগুলোর কতিপয় নেতাও ওলামায়ে কেরামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে।

 

আমরা প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, কোনো ষড়যন্ত্রকারী মহল যেন উসকানি দিয়ে দেশের শান্তি শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করার সুযোগ না পায়। আমরা আশা করি, দেশ ও জাতির স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সকলের বোধোদয় হবে এবং যেকোনো ভুল পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকবে।

 

আল্লামা কাসেমী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানে নাগরিকদের ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সুতরাং ধর্মের সঠিক ব্যাখ্যাদান ও গোমরাহীর পথ পরিহারের আহ্বান জানানো আলেম সমাজের সাংবিধানিক অধিকার এবং ধর্মীয় কর্তব্য। কোনো ব্যক্তি বিশেষ, সংগঠন বা সরকার আলেমদের এই কর্তব্য পালনে হস্তক্ষেপ করার বৈধতা রাখে না।

 

আল্লামা নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, আমরা গভীরভাবে লক্ষ্য করছি, গত কিছু দিন ধরে ইসলাম ও দেশবিরোধী একটি অশুভ শক্তি শান্তিপ্রিয় আলেম সমাজ ও তাওহিদী জনতার সাথে গায়ে পড়ে ঝগড়া বাঁধানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। তাদের তৎপরতায় মনে হচ্ছে। বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তারা বাংলাদেশ থেকে ইসলামী চেতনাবোধ উৎখাত ও দেশবিরোধীদের ফায়দা লুটার পথ সুগম করে দিতে চায়। এ বিষয়ে দেশবাসীকে পূর্ণ সতর্ক থাকতে হবে।

 

তিনি আরো বলেন, ভাস্কর্য ইস্যুতে আলেম সমাজ ইসলামের বিধান ব্যাখ্যা করে ভুল পদক্ষেপ থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ বিষয়ে শরীয়তের ফতোয়া প্রচার করেছেন। বাংলাদেশের স্থপতি মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের রূহের মাগফিরাত, শান্তি এবং তাঁর স্মৃতি স্মরণীয় করে রাখতে ইসলামসম্মত উত্তম উপায় খুঁজে বের করতে পরামর্শ দিয়েছেন। বঙ্গবন্ধু যাতে কবরে কষ্ট না পান, সে জন্য উলামায়ে কেরাম ভাস্কর্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

নূর হোসাইন কাসেমী বলেন, এই অশুভ শক্তিটি বিগত ২০১৩ সালে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার নাম ভাঙিয়ে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে বাংলাদেশ থেকে ইসলাম উৎখাতের গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছিল। হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে আলেম-উলামা ও তাওহিদী জনতার আন্দোলনে তাদের মুখোশ খসে পড়েছিল। এতদিন ঘাপটি মেরে থাকা অশুভ শক্তিটি এবার ভাস্কর্য ইস্যুর আড়ালে আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *