নারী ধূমপায়ীর ওপর চড়াও হওয়া সেই ব্যক্তি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা

নজর২৪ ডেস্ক- রাজশাহীর সিএনবি মোড়ে অবস্থিত সার্কিট হাউজ এলাকার পার্কের রাস্তায় তরুণীর ধূমপানের বিষয়ে সরগরম ফেসবুক। বিভিন্নজন বিভিন্ন ধরনের কথা বলছেন। নারী ধূমপানের বিপক্ষে বলছেন কেউ, আবার কেউ পক্ষে।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, টুপি পরা এক ব্যক্তি ওই তরুণীকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে পার্কের ফুটপাথ থেকে উঠে যেতে বাধ্য করেন। তাকে নিয়েও সমালোচনা কম হচ্ছে না। শহিদ হোসেন বারেক নামে ছাত্রলীগের ওয়ার্ড পর্যায়ের সাবেক এই নেতা বললেন, ‘ওই তরুণীর কারণে পরিবশে নষ্ট হচ্ছিল।’

 

শহিদ হোসেন বারেক দুবার ৮ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদে নির্বাচন করেছিলেন। কিন্তু জয় পাননি, হারের কারণে তার জামানত খোয়া যায়। বর্তমানে তিনি ঠিকাদারি করেন।

 

ঘটনার বিষয়ে কথা হলে বারেক বলেন, ‘একজন মেয়ে মানুষ প্রকাশ্যে সিগারেট খাচ্ছিল। এটা খারাপ দেখা যাচ্ছিল। পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। পাড়ার মেয়েরা খারাপ হয়ে যেতে পারে। তাই ভালোভাবে নিষেধ করেছি। উঠে যেতে বলেছি।’

 

নারীদের সিগারেট পান করতে দেখলে অনেকেই অনেক কথা বলেন, কিন্তু পুরুষদের বলা হয় না কেন, জানতে চাইলে ঠিকাদার বারেক বলেন, ‘ছেলে-মেয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে। ছেলেদের নিষেধ করা যায় না। কিন্তু মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট খেলে খারাপ লাগে।’

 

গতকাল রোববার থেকে ফেসবুকে তরুণীর সিগারেট পান ও এ নিয়ে রাজশাহীর সিএনবি মোড়ে অবস্থিত সার্কিট হাউজ এলাকার স্থানীয়দের গণ্ডগোলের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে।

 

ভিডিওতে দেখা যায়, উদ্যানের পার্কের ফুটপাতে বসে আড্ডা দিচ্ছে আর ধূমপান করছে তরুণ-তরুণী। এ সময় তাদের লক্ষ্য করে এগিয়ে যান শার্ট-প্যান্ট আর মাথায় টুপি পরা শহিদ হোসেন বারেক। তার পিছু নেয় আরও কয়েকজন। শুরু থেকেই মোবাইল ক্যামেরায় ভিডিও ধারণ করা হচ্ছিল। দ্রুতই আরও অনেক মানুষ জড়ো হয়।

 

অতঃপর সেই তরুণ-তরুণীকে উদ্দেশ করে বারেকের নেতৃত্বে শুরু হয় গালিগালাজ। প্রকাশ্যে ধূমপান করা তাদের কাছে সমস্যা নয়, সমস্যা হলো একজন মেয়ে ধুমপান করছে!

 

ভিডিওতে আরও দেখা যায়, বারেক শুরু থেকেই তরুণীকে গালাগাল দিয়ে উদ্যান থেকে বেরিয়ে যেতে বলছিলেন। তার সঙ্গে অনেকেই তরুণী কেন ধূমপান করবে, প্রতিবাদ করছিলেন। তরুণীকে প্রতিবাদ করতে দেখে তার রাগ আরও চড়ে যায়। তা ছাড়া পাশের লোকজনগুলো তাকে সমর্থন করে যাচ্ছিল। ভিডিও করতে দেখে ওই তরুণী ভাষ্য ছিল, ভিডিও করবেন? করেন। যা করতে পারেন করেন। আমি অপরাধ করছি না। এটা পাবলিক প্লেস। আপনি গলাবাজি করতে পারেন না। গলা উচু করে কথা বলতে পারেন না।

 

এ সময় বারেক অকথ্য ভাষায় কিছু শব্দ উচ্চারণ করেন। তার ভাষ্য ছিল, মেয়ে মানুষ পাবলিক প্লেসে বসে সিগারেট খাচ্ছেন, বাসায় কি এসব শিখিয়েছে। বিবেক নেই আপনাদের। আমাদের বিবেক আছে। তোরা বের হ এদিক থেকে। এভাবে দুপক্ষের তর্ক চলাকালীন কেউ একজন পেছন থেকে বারেককে উদ্দেশ করে বলেন, এই আপনি কে? চুপ থাকেন। আপনি সিগারেট খাওয়া বন্ধ করতে বলতে পারেন না। আপনার সেই অধিকার নাই।

 

ফের কথা বলতে শুরু করেন বারেক। তার ভাষ্য, আজকাল যে ধর্ষণ হচ্ছে, রাস্তাঘাটে মেয়েদের অপমান হচ্ছে, গায়ে হাত দিচ্ছে, এ সব কারণেই। আপনাদের (ধূমপানরত তরুণী) মতো মেয়েদের কারণেই এমন হচ্ছে।

 

এ সময় কালো টি শার্ট পরা ওই তরুণ তার সঙ্গীকে নিয়ে উদ্যান থেকে চলে যেতে ওঠেন। পরে লাল সোয়েটার পরিহিত এক ভদ্রলোক তাদের কাছে এসে চলে যেতে বলেন। তার ভাষ্য ছিল, মেয়েরা সিগারেট খাক বা নেশা করুক, গোপনে করে। প্রকাশ্যে করে না। আপনি এখান থেকে চলে যান। নাহলে আপনাকে সবাই খারাপ ভাবছে। ওই তরুণ-তরুণী চলে যেতে শুরু করলে ওই ব্যক্তিই আবার পেছন থেকে বলেন, ‘আপনার মতো মেয়েদের কারণেই আমাদের সমাজের মেয়েরা খারাপ হচ্ছে।’

 

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য পাওয়া যায়। অনেকে মনে করেন, ধূমপান করা কোনো অবস্থাতেই ঠিক নয়, কিন্তু এভাবে ধূমপানের জন্য কোনো নারী বা পুরুষকে হেয় করার সুযোগ নেই। আর ভিডিও করা আরও মারাত্মক অপরাধ।

 

জানতে চাইলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরএমপি) কমিশনার আবু কালাম সিদ্দিক বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি। এর সঙ্গে কারা জড়িত তা জানতে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *